Hi

০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও ছয় মাস দীর্ঘায়িত হতে পারে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত আরও ছয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো কার্যকর পথ খুঁজে পেতে বর্তমান প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় সিআইএ পরিচালক ও পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে এমন এক অচলাবস্থায় আটকা পড়েছে, যেখান থেকে উত্তরণের বিকল্প পথ খুবই সীমিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো আরেকটি ব্যর্থ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার পথে রয়েছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্যানেটা বলেন, সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ এবং কমান্ড কাঠামোয় অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিরোধের জেরে সৃষ্ট এই বিশৃঙ্খলা ইরানসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষ দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতার বার্তা দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

প্যানেটার মতে, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান প্রতিপক্ষদের কাছে যে দুর্বলতার বার্তা পাঠাচ্ছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রতিরক্ষা বিভাগে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই এবং যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেরই অংশ।

ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প রয়েছে বলে প্যানেটা উল্লেখ করেন। প্রথমত, যুদ্ধ থেকে সরে এসে ব্যর্থতা স্বীকার করা, যা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন। দ্বিতীয়ত, বর্তমান অচলাবস্থা বজায় রেখে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাওয়া, যা সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা, যাতে ইরানের প্রভাব খর্ব করা যায়। প্যানেটার মতে, যুদ্ধ জেতার একমাত্র উপায় হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কৌশলে পরিবর্তন আনা।

ট্রাম্পের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বারবার যুদ্ধ শেষ হওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং এর সমাপ্তি নিয়ে কোনো স্পষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি।

জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্যানেটা জানান, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। এছাড়া, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরিকে ২৬০ দিনেরও বেশি সময় বন্দরে না থামিয়ে মোতায়েন রাখার ঘটনাটি পেন্টাগনের জন্য একটি শিক্ষা হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোনো ধরনের পালাবদলের পরিকল্পনা ছাড়া দীর্ঘ সময় সেনাসদস্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে রাখা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর মতো বিকল্প এখন সত্যিই খুব কম।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর কয়েক দিন পর গার্ডিয়ানকে সাক্ষাৎকার দেন প্যানেটা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একাধিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের খবরের মধ্যে ড্রিসকল দায়িত্ব ছাড়েন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে এমন একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে যে আসলে কেউই দায়িত্বে নেই।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা দেখছে, নিজেদের রক্ষায় সামরিক শক্তি কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়েছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু আমরা আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষদের কাছে দুর্বলতার বার্তা পাঠাচ্ছি, এ বিষয়টি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘তারা যে অক্ষ গড়ে তুলেছে, সেটার আওতায় তারা পরস্পরের সঙ্গে বৈঠক করছে এবং একে অন্যকে সমর্থন দিচ্ছে।

জনপ্রিয়

ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও ছয় মাস দীর্ঘায়িত হতে পারে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও ছয় মাস দীর্ঘায়িত হতে পারে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ০৯:৩৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত আরও ছয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো কার্যকর পথ খুঁজে পেতে বর্তমান প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় সিআইএ পরিচালক ও পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে এমন এক অচলাবস্থায় আটকা পড়েছে, যেখান থেকে উত্তরণের বিকল্প পথ খুবই সীমিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো আরেকটি ব্যর্থ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার পথে রয়েছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্যানেটা বলেন, সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ এবং কমান্ড কাঠামোয় অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিরোধের জেরে সৃষ্ট এই বিশৃঙ্খলা ইরানসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষ দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতার বার্তা দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

প্যানেটার মতে, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান প্রতিপক্ষদের কাছে যে দুর্বলতার বার্তা পাঠাচ্ছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রতিরক্ষা বিভাগে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই এবং যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেরই অংশ।

ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প রয়েছে বলে প্যানেটা উল্লেখ করেন। প্রথমত, যুদ্ধ থেকে সরে এসে ব্যর্থতা স্বীকার করা, যা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন। দ্বিতীয়ত, বর্তমান অচলাবস্থা বজায় রেখে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাওয়া, যা সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা, যাতে ইরানের প্রভাব খর্ব করা যায়। প্যানেটার মতে, যুদ্ধ জেতার একমাত্র উপায় হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কৌশলে পরিবর্তন আনা।

ট্রাম্পের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বারবার যুদ্ধ শেষ হওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং এর সমাপ্তি নিয়ে কোনো স্পষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি।

জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্যানেটা জানান, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। এছাড়া, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরিকে ২৬০ দিনেরও বেশি সময় বন্দরে না থামিয়ে মোতায়েন রাখার ঘটনাটি পেন্টাগনের জন্য একটি শিক্ষা হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোনো ধরনের পালাবদলের পরিকল্পনা ছাড়া দীর্ঘ সময় সেনাসদস্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে রাখা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর মতো বিকল্প এখন সত্যিই খুব কম।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর কয়েক দিন পর গার্ডিয়ানকে সাক্ষাৎকার দেন প্যানেটা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একাধিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের খবরের মধ্যে ড্রিসকল দায়িত্ব ছাড়েন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে এমন একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে যে আসলে কেউই দায়িত্বে নেই।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা দেখছে, নিজেদের রক্ষায় সামরিক শক্তি কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়েছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু আমরা আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষদের কাছে দুর্বলতার বার্তা পাঠাচ্ছি, এ বিষয়টি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘তারা যে অক্ষ গড়ে তুলেছে, সেটার আওতায় তারা পরস্পরের সঙ্গে বৈঠক করছে এবং একে অন্যকে সমর্থন দিচ্ছে।