বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তার মেয়ের জামাতা ও বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ফাহাম আবদুস সালাম। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ফাহাম তার শ্বশুরকে ‘পরিবারের বড় ছেলে’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যার কাঁধে সবসময়ই অনেক দায়িত্ব থাকে।
মির্জা ফখরুলকে ২২ বছর ধরে চেনেন জানিয়ে ফাহাম বলেন, তার জীবনে এমন দায়িত্বশীল মানুষ কেবল ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যারকে দেখেছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাত ভাইবোনের জন্য ছয়টি চকলেট থাকলে মির্জা ফখরুল নিজে একটিও না নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে সেগুলো বিলিয়ে দিয়ে আনন্দ পেতেন। এই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তিনি কখনোই বের হতে পারেন না। ফাহামের মতে, নিজেকে কাজে লাগানোর প্রবল মানসিকতা মির্জা ফখরুলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এমনকি ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গিয়েও তিনি বসে না থেকে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার মতো কাজ শুরু করেন।
৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একান্ত আলাপের স্মৃতিচারণ করে ফাহাম জানান, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের কাজ হয়ে গেছে। ম্যাডামকে বের করে আনছি। আর ইলেকশন হলে দেশটাও গণতন্ত্রে উঠে যাবে। আই অ্যাম স্যাটিসফায়েড।’ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারাকে মির্জা ফখরুল নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতেন বলেও ফাহাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাদের পরিবারে খালেদা জিয়ার অবস্থান সাধারণ রাজনৈতিক নেতার মতো নয়। মির্জা ফখরুলের মতো এমন অনুগত ও নিবেদিতপ্রাণ ‘সাহাবি’ পাওয়া যেকোনো নেতার জন্যই সৌভাগ্যের বিষয়, যা অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে পাওয়া কঠিন বলে তিনি মনে করেন।
বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের অনেকে মির্জা ফখরুলকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলে অভিহিত করেন, যার মধ্যে সত্যতা রয়েছে বলে ফাহাম মনে করেন। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল দলের চেয়েও আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান। যদিও বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শতভাগ গণতন্ত্র চর্চা করা কোনো নেতার পক্ষেই সম্ভব নয়, তবুও মির্জা ফখরুল সারাজীবন গণতন্ত্রের গাড়িতে ঠেলা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে নিজের জন্য আনন্দ ও হতাশার মিশ্র অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন ফাহাম। তিনি বলেন, জাতি অভিভাবক হিসেবে যাকে দেখতে চায়, মির্জা ফখরুল সেই সঠিক মানুষ। তবে বিএনপিতে এমন একজন মানুষের অভাব অনুভূত হবে, যার রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়া কঠিন। এছাড়া বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে তার দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ফাহাম আরও উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুলকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার জীবদ্দশায় অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা এমন ‘জেনুইন বাইপার্টিজান’ বা উভয় পক্ষের সমর্থন পেয়েছেন কি না, তা তার মনে পড়ে না। তিনি মির্জা ফখরুলকে কোনো ‘মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ’ নন এবং বিএনপিতে তার কোনো গ্রুপিং নেই বলেও মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দায়িত্বশীলতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তিনি এমন একজন বড়ভাই যিনি ৭ ভাইবোনের জন্য ৬টা চকলেট পেলে নিজের ৬ ভাইবোনকে ৬টা চকলেট দিয়ে নিজে একটাও না নিয়ে খুব খুশি থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৬ ভাইবোনের জন্য তিনি যে দায়িত্বের সঙ্গে সঠিক কাজটা খুব দ্রুত করে ফেললেন, এটাই তার সন্তুষ্টির মূল জায়গা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ওনার প্রেসিডেন্ট হওয়াটা আমার জন্য একই সঙ্গে আনন্দের ও হতাশার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নন-পলিটিকাল পরিবারের কাউকে বোঝানো কঠিন যে ম্যাডামের মর্তবাটা ঠিক কেমন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশে কোনো পলিটিক্যাল লিডারের মির্জা আলমগীরের মতো সাহাবি পাওয়া কঠিন যে নিজের ভালো ও খারাপ- দুই সময়েই লিডারকে প্রথমে মনে করে এবং লিডারের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি নিশ্চিত না যে তারেক রহমান এ রকম এক সাহাবি পাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেন যেন শিক্ষিত লোকেরা শুধুই বেঈমানি ও নিজের স্বার্থ দেখে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার দৃষ্টিভঙ্গি সবার পছন্দ নাও হতে পারে, তবে তিনি যা বলেন, তা বিশ্বাস করেন এবং সেভাবেই কাজ করার চেষ্টা করেন।
রিপোর্টার নাম: 






















