Hi

১২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেক্ষাপট: সরকারি সংস্থা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, নাকি নেতাদের পুনর্বাসন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছে

গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে বাছাই করা হয়। কাজটি করে ভাইস প্রেসিডেন্ট অথবা শীর্ষ কোনো নেতার নেতৃত্বাধীন কমিটি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন দলের ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক আবদুল বারী। দলের এই নেতাকে নৌপরিবহনের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান পদে বসানোয় এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপি সরকার কি দলের মনোনয়নবঞ্চিত অথবা পদবঞ্চিত নেতাদের সরকারি সংস্থাগুলোয় পুনর্বাসন করছে? শুধু বিআইডব্লিউটিসি নয়, অন্তত ১১টি সরকারি সংস্থার প্রধান পদে এখন দলের নেতাদের বসানো হয়েছে। এর বাইরে ৬৩টি জেলা পরিষদ এবং ১১টি সিটি করপোরেশনেও দলের নেতাদের প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনীতিবিদদের বসানো হয়েছিল। তবে ‘স্পয়েল সিস্টেম’ শব্দগুচ্ছটির ব্যবহার শুরু হয় ১৮১২ সালের দিকে। ১৯৩২ সালে নিউইয়র্কের মেয়র উইলিয়াম মার্সি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের সময়কার বিতর্কিত নিয়োগকে সমর্থন করতে গিয়ে ‘স্পয়েল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৮৮৩ সালে পেন্ডলটন অ্যাক্টের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চালু হয় এবং তাতে রাজনৈতিক নিয়োগ সীমিত হয়। অবশ্য নেদারল্যান্ডসের পাবলিক ম্যাটার্স নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পিটার ফন কিউলেন একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন, এখনো নতুন সরকার এসে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজারের মতো নিয়োগ দেয় রাজনৈতিকভাবে। তিনি বলেন, দলের প্রতি কে কতটা ত্যাগ শিকার করেছেন, সরকারি পদ পেতে সেটি কোনো যোগ্যতা হতে পারে না।

দেশে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, ইনস্টিটিউট, করপোরেশন ইত্যাদির সংখ্যা ৩৫০টির বেশি। সাধারণত এসব দপ্তর বা সংস্থার প্রধান পদে নিয়োগ পান প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। শামসুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব বন্ধ কারখানা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বর্তমান কাঠামো দিয়ে সম্ভব নয় বলে তাঁর দল মনে করে। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কাজে গতিশীলতা আসে। এ কারণেই ব্যক্তির বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্যকে বিবেচনায় না নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে কেবল সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম ও অভিজ্ঞতার বিচার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসন, পুলিশ এবং সব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

৫০টির মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি সরকার উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘দেখা যাক সরকারি দপ্তর কারা ভালো চালায়, আমলারা নাকি রাজনীতিবিদেরা।’ জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিবিদেরাই চেয়ারম্যান অথবা মেয়র পদে আসেন। কিন্তু সরকারি সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি এখানে গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান মনে করেন, সাম্প্রতিক নিয়োগগুলো মূলত দলীয়করণের একটি অংশ, যা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

অনেক দপ্তরের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবু এসব সংস্থা সরকার পুষে রাখে এবং সেগুলোকে আমলাদের পদায়ন ও পুনর্বাসনকেন্দ্র বলে মনে করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে সরকার একটি প্রশাসনিক পুনর্গঠন কমিটি গঠন করেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারঘনিষ্ঠ আমলাদের সরকারি সংস্থার প্রধান পদে বসানো হতো। এমন অবস্থায় বিএনপি সরকার আমলাদের বদলে সরকারি সংস্থায় রাজনীতিবিদদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করল। সরকার বিএনপি নেতাদের এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় (গ্রেড-২) নিয়োগ দিয়েছে। এই পদে মূল বেতন ৬৬ থেকে ৭৬ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সংস্থাগুলোর কেনাকাটা, লেনদেন, প্রকল্প ও বরাদ্দ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বা সংস্থাপ্রধানের বিপুল ক্ষমতা থাকে, যা অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি করে।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়া বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক আবদুল বারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বিআইডব্লিউটিসি হলো সরকারের নৌপরিবহন করপোরেশন। অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং যানবাহন পারাপারে ফেরি পরিচালনা করে সংস্থাটি। দেশের নদীগুলোর ওপর যত সেতু নির্মিত হচ্ছে, বিআইডব্লিউটিসির গুরুত্ব তত কমছে। বিএনপির একজন নেতাকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তাই নানা গুঞ্জন রয়েছে। একইভাবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে। সরকার তাঁত ও তাঁতিদের নিয়ে বড় কোনো পরিকল্পনা করছে, সে জন্য তাঁত বোর্ডে দলের লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—বিষয়টি তেমন নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবেশ ও বনবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলামকে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০০৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছিল। চার নম্বর নিয়োগটি হলো বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান পদে বেনজীর আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া। তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা। উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে বিসিক যাত্রা শুরু করে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিসিকের অন্তত ১০টি প্রকল্পের কাজ চলমান, যার মোট ব্যয় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। বেনজীর আহমেদ বলেন, এখন সরকার চাইছে বিসিক কার্যকর হোক, এ কারণেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের (বিজেসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়া মামুন হাসান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। পাট ক্রয় ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ১৯৮৫ সালের ১ জুলাই জুট করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিজেসি সূত্র জানায়, সংস্থাটি গঠনের সময় এর প্রায় ৬৮৬ একর জমি ছিল। বিলুপ্ত ঘোষণার পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জুট করপোরেশনে দলীয় নিয়োগ পুনর্বাসন ছাড়া আর কিছু নয়। বিগত সরকারের সময়ে মামুন হাসান নানাভাবে বঞ্চিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে দলীয় পরিচয়ে নিয়োগের এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পেশাদারত্ব নষ্ট করবে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব থাকলে যেকোনো সরকারি সংস্থাই ব্যর্থ হতে বাধ্য। বিএনপি সরকার যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু দলীয় নেতাদের নিয়োগ দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে দলীয় নিয়োগের ফলে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। এখন বিএনপি সরকার সেই একই পথে হাঁটছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। সরকারি সংস্থাগুলো মূলত রাষ্ট্রের সম্পদ, যা কোনো নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়।

নিয়োগের প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন ছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট অথবা শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বাধীন কমিটি যে বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে, তার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। যদি কেবল দলীয় আনুগত্যই যোগ্যতার মাপকাঠি হয়, তবে মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, তারা আমলাতন্ত্রের স্থবিরতা ভাঙতে চান। কিন্তু আমলাতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে দলীয় কর্মীদের বসানো কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। সরকারি সংস্থাগুলোয় পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা এবং সেগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সবশেষে বলা যায়, সরকারি সংস্থায় রাজনৈতিক নিয়োগের এই প্রবণতা নতুন নয়, তবে এর মাত্রা ও ধরন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিএনপি সরকার যদি সত্যিই প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল করতে চায়, তবে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। এখন দেখার বিষয়, এই নিয়োগপ্রাপ্ত নেতারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতটা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন। যদি তারা ব্যর্থ হন, তবে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে দলীয়করণের চেয়ে জনস্বার্থই মুখ্য হওয়া উচিত।

পরিশেষে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগগুলো রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য মরিয়া। কিন্তু সেই মরিয়া ভাব যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড কমিয়ে দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সরকারি সংস্থাগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা অফিস নয়, বরং এগুলো জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। এই মৌলিক সত্যটি মাথায় রেখে সরকার ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।

সাবেক সচিব এম নুরুন্নবী চৌধুরীর নেতৃত্বে ওই কমিটি ১৯৯৬ সালে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

এতে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩৫ থেকে ২২-এ নামিয়ে আনা এবং ৪৭টি সরকারি সংস্থা বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

এই পদে মূল বেতন ৬৬ থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুগতদের নিয়োগ বহুদিন ধরেই চলছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে স্পয়েল সিস্টেমের কারণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতা বেড়ে গিয়েছিল।

মনোনীত ব্যক্তির নাম যায় সিনেট কমিটিতে।

সিনেট কমিটি মনোনীত ব্যক্তিকে প্রশ্নে প্রশ্নে জর্জরিত করে।

পরে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়।

এ সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ আর নেওয়া হয়নি।

দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে এসব সংস্থা বিশেষ কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি।

বাড়িভাড়া ভাতা (ঢাকার জন্য) মূল বেতনের ৫০ শতাংশ।

চিকিৎসায় দেড় হাজার টাকা, সন্তানপ্রতি ৫০০ টাকা শিক্ষাভাতা এবং ৯০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা রয়েছে।

সার্বক্ষণিক গাড়িসুবিধা পান সংস্থার প্রধানেরা।

ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি করার পর তিনি বিএনপির কমিটিতে স্থান পান।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে লোকসান দিচ্ছে।

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁত বোর্ড সরকারের অগ্রাধিকারে কখনোই ছিল না।

তাঁত বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে তাঁত বোর্ডের ৪৯টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৩৫টি বেসিক সেন্টার রয়েছে।

এসব সেন্টার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

এ তহবিল গঠনের পর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত রাজস্ব তহবিল থেকে চার হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত বছর ৪ নভেম্বর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জলবায়ু তহবিলের অধীনে অনুমোদিত ৮৯১টি প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ১১১ কোটি টাকা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে।

বরাদ্দ করা প্লটের বিপরীতে শিল্পকারখানা রয়েছে ৬ হাজার ২০০টি।

তিনি ঢাকা-১৫ আসনে (কাফরুল-মিরপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন।

তবে অব্যাহত লোকসান ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১৯৯৩ সালে বিজেসি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সংস্থা বিলুপ্তির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওই বছর গঠন করা হয়েছিল বিলুপ্তি সেল।

কিন্তু ৩২ বছরেও বিলুপ্তি সেলের কাজ শেষ হয়নি।

বিলুপ্ত ঘোষণার পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৯১ একর জমি বিক্রি করা হয়েছে।

২০১২ সাল থেকে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধ।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ২৯৫ একর সম্পত্তি আছে।

এসব সম্পত্তি উদ্ধারে বর্তমানে ২৮২টি মামলা চলছে।

দখলে থাকা সম্পত্তির মধ্যে প্রায় ৬৭ একর জমি ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

১৯৫৯ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বর্তমান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা।

প্রতিবছর লোকসান দিয়ে আসছে সংস্থাটি।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বনজ সম্পদ যান্ত্রিক উপায়ে আহরণ করা, রাবারবাগান সৃজন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন করা এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।

যদিও যে উদ্দেশে প্রতিষ্ঠানটি করা হয়, সেটি তাঁরা করতে পারছে না।

বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে সালাহ্উদ্দিন সরকারকে।

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত আগের ১০ বছরে সংস্থাটি লোকসান দিয়েছে ৭ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।

১৪টি চিনিকল এই সংস্থার অধীনে পরিচালিত হয়।

এদিকে গত রোববার কুমিল্লা ওয়াসার নবগঠিত বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে (ওয়াসিম) তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

বিএনপির নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে মোটাদাগে তিনটি কারণ জানা যায়।

কেউ মনোনয়ন পাননি, কাউকে দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারত্ব বৃদ্ধি ও দলীয়করণ রোধ’ শিরোনামের একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিগত দিনগুলোয় সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।

জনপ্রিয়

অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ, নিলেন ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্রেক্ষাপট: সরকারি সংস্থা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, নাকি নেতাদের পুনর্বাসন

আপডেট : ১০:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন দলের ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক আবদুল বারী। দলের এই নেতাকে নৌপরিবহনের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান পদে বসানোয় এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপি সরকার কি দলের মনোনয়নবঞ্চিত অথবা পদবঞ্চিত নেতাদের সরকারি সংস্থাগুলোয় পুনর্বাসন করছে? শুধু বিআইডব্লিউটিসি নয়, অন্তত ১১টি সরকারি সংস্থার প্রধান পদে এখন দলের নেতাদের বসানো হয়েছে। এর বাইরে ৬৩টি জেলা পরিষদ এবং ১১টি সিটি করপোরেশনেও দলের নেতাদের প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনীতিবিদদের বসানো হয়েছিল। তবে ‘স্পয়েল সিস্টেম’ শব্দগুচ্ছটির ব্যবহার শুরু হয় ১৮১২ সালের দিকে। ১৯৩২ সালে নিউইয়র্কের মেয়র উইলিয়াম মার্সি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের সময়কার বিতর্কিত নিয়োগকে সমর্থন করতে গিয়ে ‘স্পয়েল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৮৮৩ সালে পেন্ডলটন অ্যাক্টের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চালু হয় এবং তাতে রাজনৈতিক নিয়োগ সীমিত হয়। অবশ্য নেদারল্যান্ডসের পাবলিক ম্যাটার্স নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পিটার ফন কিউলেন একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন, এখনো নতুন সরকার এসে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজারের মতো নিয়োগ দেয় রাজনৈতিকভাবে। তিনি বলেন, দলের প্রতি কে কতটা ত্যাগ শিকার করেছেন, সরকারি পদ পেতে সেটি কোনো যোগ্যতা হতে পারে না।

দেশে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, ইনস্টিটিউট, করপোরেশন ইত্যাদির সংখ্যা ৩৫০টির বেশি। সাধারণত এসব দপ্তর বা সংস্থার প্রধান পদে নিয়োগ পান প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। শামসুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব বন্ধ কারখানা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বর্তমান কাঠামো দিয়ে সম্ভব নয় বলে তাঁর দল মনে করে। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে কাজে গতিশীলতা আসে। এ কারণেই ব্যক্তির বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্যকে বিবেচনায় না নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে কেবল সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম ও অভিজ্ঞতার বিচার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসন, পুলিশ এবং সব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

৫০টির মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি সরকার উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘দেখা যাক সরকারি দপ্তর কারা ভালো চালায়, আমলারা নাকি রাজনীতিবিদেরা।’ জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিবিদেরাই চেয়ারম্যান অথবা মেয়র পদে আসেন। কিন্তু সরকারি সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি এখানে গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান মনে করেন, সাম্প্রতিক নিয়োগগুলো মূলত দলীয়করণের একটি অংশ, যা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

অনেক দপ্তরের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবু এসব সংস্থা সরকার পুষে রাখে এবং সেগুলোকে আমলাদের পদায়ন ও পুনর্বাসনকেন্দ্র বলে মনে করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে সরকার একটি প্রশাসনিক পুনর্গঠন কমিটি গঠন করেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারঘনিষ্ঠ আমলাদের সরকারি সংস্থার প্রধান পদে বসানো হতো। এমন অবস্থায় বিএনপি সরকার আমলাদের বদলে সরকারি সংস্থায় রাজনীতিবিদদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করল। সরকার বিএনপি নেতাদের এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় (গ্রেড-২) নিয়োগ দিয়েছে। এই পদে মূল বেতন ৬৬ থেকে ৭৬ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সংস্থাগুলোর কেনাকাটা, লেনদেন, প্রকল্প ও বরাদ্দ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বা সংস্থাপ্রধানের বিপুল ক্ষমতা থাকে, যা অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি করে।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়া বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক আবদুল বারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বিআইডব্লিউটিসি হলো সরকারের নৌপরিবহন করপোরেশন। অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং যানবাহন পারাপারে ফেরি পরিচালনা করে সংস্থাটি। দেশের নদীগুলোর ওপর যত সেতু নির্মিত হচ্ছে, বিআইডব্লিউটিসির গুরুত্ব তত কমছে। বিএনপির একজন নেতাকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তাই নানা গুঞ্জন রয়েছে। একইভাবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে। সরকার তাঁত ও তাঁতিদের নিয়ে বড় কোনো পরিকল্পনা করছে, সে জন্য তাঁত বোর্ডে দলের লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—বিষয়টি তেমন নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবেশ ও বনবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলামকে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০০৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছিল। চার নম্বর নিয়োগটি হলো বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান পদে বেনজীর আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া। তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা। উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে বিসিক যাত্রা শুরু করে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিসিকের অন্তত ১০টি প্রকল্পের কাজ চলমান, যার মোট ব্যয় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। বেনজীর আহমেদ বলেন, এখন সরকার চাইছে বিসিক কার্যকর হোক, এ কারণেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের (বিজেসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়া মামুন হাসান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। পাট ক্রয় ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ১৯৮৫ সালের ১ জুলাই জুট করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিজেসি সূত্র জানায়, সংস্থাটি গঠনের সময় এর প্রায় ৬৮৬ একর জমি ছিল। বিলুপ্ত ঘোষণার পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জুট করপোরেশনে দলীয় নিয়োগ পুনর্বাসন ছাড়া আর কিছু নয়। বিগত সরকারের সময়ে মামুন হাসান নানাভাবে বঞ্চিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে দলীয় পরিচয়ে নিয়োগের এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পেশাদারত্ব নষ্ট করবে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব থাকলে যেকোনো সরকারি সংস্থাই ব্যর্থ হতে বাধ্য। বিএনপি সরকার যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু দলীয় নেতাদের নিয়োগ দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে দলীয় নিয়োগের ফলে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। এখন বিএনপি সরকার সেই একই পথে হাঁটছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। সরকারি সংস্থাগুলো মূলত রাষ্ট্রের সম্পদ, যা কোনো নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়।

নিয়োগের প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন ছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট অথবা শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বাধীন কমিটি যে বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে, তার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। যদি কেবল দলীয় আনুগত্যই যোগ্যতার মাপকাঠি হয়, তবে মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, তারা আমলাতন্ত্রের স্থবিরতা ভাঙতে চান। কিন্তু আমলাতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে দলীয় কর্মীদের বসানো কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। সরকারি সংস্থাগুলোয় পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা এবং সেগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সবশেষে বলা যায়, সরকারি সংস্থায় রাজনৈতিক নিয়োগের এই প্রবণতা নতুন নয়, তবে এর মাত্রা ও ধরন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিএনপি সরকার যদি সত্যিই প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল করতে চায়, তবে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। এখন দেখার বিষয়, এই নিয়োগপ্রাপ্ত নেতারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতটা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন। যদি তারা ব্যর্থ হন, তবে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালনে দলীয়করণের চেয়ে জনস্বার্থই মুখ্য হওয়া উচিত।

পরিশেষে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগগুলো রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য মরিয়া। কিন্তু সেই মরিয়া ভাব যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড কমিয়ে দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সরকারি সংস্থাগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা অফিস নয়, বরং এগুলো জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। এই মৌলিক সত্যটি মাথায় রেখে সরকার ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।

সাবেক সচিব এম নুরুন্নবী চৌধুরীর নেতৃত্বে ওই কমিটি ১৯৯৬ সালে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

এতে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩৫ থেকে ২২-এ নামিয়ে আনা এবং ৪৭টি সরকারি সংস্থা বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

এই পদে মূল বেতন ৬৬ থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুগতদের নিয়োগ বহুদিন ধরেই চলছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে স্পয়েল সিস্টেমের কারণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতা বেড়ে গিয়েছিল।

মনোনীত ব্যক্তির নাম যায় সিনেট কমিটিতে।

সিনেট কমিটি মনোনীত ব্যক্তিকে প্রশ্নে প্রশ্নে জর্জরিত করে।

পরে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়।

এ সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ আর নেওয়া হয়নি।

দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে এসব সংস্থা বিশেষ কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি।

বাড়িভাড়া ভাতা (ঢাকার জন্য) মূল বেতনের ৫০ শতাংশ।

চিকিৎসায় দেড় হাজার টাকা, সন্তানপ্রতি ৫০০ টাকা শিক্ষাভাতা এবং ৯০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা রয়েছে।

সার্বক্ষণিক গাড়িসুবিধা পান সংস্থার প্রধানেরা।

ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি করার পর তিনি বিএনপির কমিটিতে স্থান পান।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে লোকসান দিচ্ছে।

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁত বোর্ড সরকারের অগ্রাধিকারে কখনোই ছিল না।

তাঁত বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে তাঁত বোর্ডের ৪৯টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৩৫টি বেসিক সেন্টার রয়েছে।

এসব সেন্টার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

এ তহবিল গঠনের পর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত রাজস্ব তহবিল থেকে চার হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত বছর ৪ নভেম্বর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জলবায়ু তহবিলের অধীনে অনুমোদিত ৮৯১টি প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ১১১ কোটি টাকা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে।

বরাদ্দ করা প্লটের বিপরীতে শিল্পকারখানা রয়েছে ৬ হাজার ২০০টি।

তিনি ঢাকা-১৫ আসনে (কাফরুল-মিরপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন।

তবে অব্যাহত লোকসান ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১৯৯৩ সালে বিজেসি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সংস্থা বিলুপ্তির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওই বছর গঠন করা হয়েছিল বিলুপ্তি সেল।

কিন্তু ৩২ বছরেও বিলুপ্তি সেলের কাজ শেষ হয়নি।

বিলুপ্ত ঘোষণার পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৯১ একর জমি বিক্রি করা হয়েছে।

২০১২ সাল থেকে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধ।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ২৯৫ একর সম্পত্তি আছে।

এসব সম্পত্তি উদ্ধারে বর্তমানে ২৮২টি মামলা চলছে।

দখলে থাকা সম্পত্তির মধ্যে প্রায় ৬৭ একর জমি ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

১৯৫৯ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বর্তমান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা।

প্রতিবছর লোকসান দিয়ে আসছে সংস্থাটি।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বনজ সম্পদ যান্ত্রিক উপায়ে আহরণ করা, রাবারবাগান সৃজন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন করা এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।

যদিও যে উদ্দেশে প্রতিষ্ঠানটি করা হয়, সেটি তাঁরা করতে পারছে না।

বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক করা হয়েছে সালাহ্উদ্দিন সরকারকে।

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত আগের ১০ বছরে সংস্থাটি লোকসান দিয়েছে ৭ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।

১৪টি চিনিকল এই সংস্থার অধীনে পরিচালিত হয়।

এদিকে গত রোববার কুমিল্লা ওয়াসার নবগঠিত বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে (ওয়াসিম) তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

বিএনপির নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে মোটাদাগে তিনটি কারণ জানা যায়।

কেউ মনোনয়ন পাননি, কাউকে দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারত্ব বৃদ্ধি ও দলীয়করণ রোধ’ শিরোনামের একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিগত দিনগুলোয় সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।