Hi

০১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়: নির্বাচনের পরে আসা পোস্টাল ব্যালট গণনা বৈধ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সেই আইন বহাল রেখেছে, যা নির্বাচনের দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ডাকযোগে আসা ব্যালট গণনার অনুমতি দেয়। রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে এই নিয়ম চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল, তবে সর্বোচ্চ আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে পোস্টাল ব্যালটের গুরুত্ব আরও অটুট রইল।

দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে পোস্টাল ব্যালট বা মেইল-ইন ব্যালট নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। রিপাবলিকানদের দাবি ছিল, নির্বাচনের দিন শেষ হওয়ার পর আসা ব্যালটগুলো গ্রহণ করলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাদের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট সময়ের পরে আসা ভোটগুলো গণনা করলে তা নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপির সুযোগ তৈরি করে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব নির্বাচনী আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। বিশেষ করে যেসব ভোটার দুর্গম এলাকায় বসবাস করেন বা নানা জটিলতায় নির্বাচনের দিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেন না, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই নিয়মটি অত্যন্ত কার্যকর। মিসিসিপির এই আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন বা তার আগে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট যদি নির্বাচনের কয়েক দিন পরেও পৌঁছায়, তবুও তা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে, যদি না তাতে অন্য কোনো আইনি ত্রুটি থাকে।

এই রায় কেবল মিসিসিপির জন্য নয়, বরং পুরো মার্কিন নির্বাচনী কাঠামোর জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে, ফেডারেল আদালতগুলো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী বিধিবিধানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অনাগ্রহী, যতক্ষণ না তা সংবিধানের কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। আগামী নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ও আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই রায়ের পরও রিপাবলিকান সমর্থক মহলে ক্ষোভ রয়ে গেছে। তারা মনে করছেন, নির্বাচনের দিনই ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়াটি এতে বিলম্বিত হবে। অন্যদিকে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই রায়কে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত করাই একটি সুস্থ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা: বেইজিং-এর স্পষ্ট বার্তা, কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়: নির্বাচনের পরে আসা পোস্টাল ব্যালট গণনা বৈধ

আপডেট : ০৯:৩৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সেই আইন বহাল রেখেছে, যা নির্বাচনের দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ডাকযোগে আসা ব্যালট গণনার অনুমতি দেয়। রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে এই নিয়ম চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল, তবে সর্বোচ্চ আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে পোস্টাল ব্যালটের গুরুত্ব আরও অটুট রইল।

দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে পোস্টাল ব্যালট বা মেইল-ইন ব্যালট নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। রিপাবলিকানদের দাবি ছিল, নির্বাচনের দিন শেষ হওয়ার পর আসা ব্যালটগুলো গ্রহণ করলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাদের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট সময়ের পরে আসা ভোটগুলো গণনা করলে তা নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপির সুযোগ তৈরি করে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব নির্বাচনী আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। বিশেষ করে যেসব ভোটার দুর্গম এলাকায় বসবাস করেন বা নানা জটিলতায় নির্বাচনের দিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেন না, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই নিয়মটি অত্যন্ত কার্যকর। মিসিসিপির এই আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন বা তার আগে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট যদি নির্বাচনের কয়েক দিন পরেও পৌঁছায়, তবুও তা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে, যদি না তাতে অন্য কোনো আইনি ত্রুটি থাকে।

এই রায় কেবল মিসিসিপির জন্য নয়, বরং পুরো মার্কিন নির্বাচনী কাঠামোর জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে, ফেডারেল আদালতগুলো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী বিধিবিধানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অনাগ্রহী, যতক্ষণ না তা সংবিধানের কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। আগামী নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ও আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই রায়ের পরও রিপাবলিকান সমর্থক মহলে ক্ষোভ রয়ে গেছে। তারা মনে করছেন, নির্বাচনের দিনই ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়াটি এতে বিলম্বিত হবে। অন্যদিকে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই রায়কে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত করাই একটি সুস্থ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য।