ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে এক মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। সরকারি হিসাব ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এমন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ভেনেজুয়েলার একটি ধসে পড়া আবাসন প্রকল্পের ধ্বংসাবশেষ থেকে এক নবজাতক সন্তানসহ এক মাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা সারা বিশ্বে এক অলৌকিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই মা বর্ণনা করেন কীভাবে ধ্বংসস্তূপের নিস্তব্ধ অন্ধকারে তার নবজাতক সন্তানই তাকে বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা যখন তাদের খুঁজে বের করেন, তখন ওই মা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। তিনি জানান, ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকা পড়া অবস্থায় তিনি কেবল তার সন্তানের কথা ভেবেই নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রেখেছিলেন। এই ঘটনাটি নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের স্বজনদের মধ্যে ক্ষীণ হলেও আশার আলো জাগিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চ্যাভেজ আমলের আবাসন প্রকল্পগুলো ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটিতে বড় ধরনের কাঠামোগত দুর্বলতার দিকটি সামনে নিয়ে এসেছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনাকারী দলগুলো এখন প্রতিটি ধসে পড়া ভবনের নিচে প্রাণের স্পন্দনের খোঁজে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ বছর বয়সী এক কিশোরকে দীর্ঘ সময় পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা উদ্ধারকারী দলের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ধ্বংসস্তূপের বিশাল পরিমাণের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের স্বজনরা ধ্বংসস্তূপের পাশে ভিড় করছেন এবং প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে এবং স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। তবে নিখোঁজদের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের জন্য সময় যত গড়াচ্ছে, ততই তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টার নাম: 



















