Hi

১০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ বাংলাদেশির

  • ডেস্ক সংবাদ
  • আপডেট : ১০:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশির সবাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার খবরে তাদের পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহতরা হলেন জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং কাদের আহমদ। দুর্ঘটনায় আরও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। শাহানিয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ উদ্ধার করে একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী সংগঠনগুলো নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নিহতদের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাটে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়রা বলছেন, জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমানো এসব প্রবাসীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকার ও দূতাবাসের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসী সংগঠনগুলোও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। এখন স্বজনদের অপেক্ষা, প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায় জানানোর।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ বাংলাদেশির

আপডেট : ১০:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশির সবাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার খবরে তাদের পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহতরা হলেন জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং কাদের আহমদ। দুর্ঘটনায় আরও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। শাহানিয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ উদ্ধার করে একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী সংগঠনগুলো নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নিহতদের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাটে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়রা বলছেন, জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমানো এসব প্রবাসীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকার ও দূতাবাসের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসী সংগঠনগুলোও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। এখন স্বজনদের অপেক্ষা, প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায় জানানোর।