মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও। প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে মার্কিন ডলারের দাম। ব্যাংকগুলো এখন প্রবাসী আয় কিনতে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দিচ্ছে, যার প্রভাবে আমদানিতে ডলারের দর প্রায় ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগেও আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগাম ঋণপত্রের দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে হঠাৎ এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, আন্তঃব্যাংক বাজারেও ডলারের দর কিছুটা বেড়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায়। আগের দিন যা ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যেই ওঠানামা করছিল।
খোলাবাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে নগদ ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায়। গত সপ্তাহে এই দর ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের বিপরীতে বেশি দাম প্রস্তাব করছে। আগে যেখানে প্রায় ১২২ টাকায় প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা যেত, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানির ক্ষেত্রেও।
একজন আমদানিকারক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাংকগুলো হঠাৎ আমদানিতে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে পড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রা বিনিময় হার প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দামও বেড়েছে। ৩ মার্চ প্রতি ডলারের গড় দর ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে হয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সা।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ডলারের দাম ১২৩ টাকার বেশি না বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মৌখিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। সে কারণে এখনো বাজারে ডলারের দাম ওই সীমার ওপরে ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বাড়লে এবং বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সহায়তা দিতে হতে পারে। ডলারের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
ডলারের দাম বাড়লে আমদানির খরচ বেড়ে যায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি 



















