Hi

০২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক-কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণায় বন্দরের কার্যক্রম স্থবির

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারী নেতারা আগামীকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক অবরোধ কর্মসূচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন এই ঘোষণা দেন।

ইব্রাহীম খোকন জানান, নৌ-উপদেষ্টা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। আমাদের লোকদের বদলি করছেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির কথা বলছেন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামীকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচি চলবে। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়, যার কারণে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ইতোমধ্যে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং আন্দোলন কেন্দ্র করে দেওয়া সব বদলির আদেশ বাতিল করা। বর্তমানে এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থসহ সব টার্মিনালেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কর্মবিরতির কারণে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালেই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে মিছিলটি বন্দর অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা প্রদান করে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে কর্তৃপক্ষ উল্টো দমন-পীড়ন ও বদলির মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে।

এ অচলাবস্থার কারণে চার দিন ধরে জাহাজ অপেক্ষমাণ থাকায় এবং পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিজিএমইএর সহসভাপতি সেলিমুর রহমান জানান, এ পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং পোশাক খাতের রফতানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রমিক নেতারা বলেছেন, দীর্ঘ সাত মাস ধরে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কর্ণপাত না থাকায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ছাড়া উপায় নেই। তারা দাবি করেছেন, গণবদলি বন্ধ এবং আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করা সকল শ্রমিক পুনরায় অ্যাক্টিভ করা হোক, এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ ও দায় স্বীকার জরুরি।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

শ্রমিক-কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণায় বন্দরের কার্যক্রম স্থবির

আপডেট : ০১:০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারী নেতারা আগামীকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক অবরোধ কর্মসূচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন এই ঘোষণা দেন।

ইব্রাহীম খোকন জানান, নৌ-উপদেষ্টা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। আমাদের লোকদের বদলি করছেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির কথা বলছেন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামীকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচি চলবে। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়, যার কারণে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ইতোমধ্যে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং আন্দোলন কেন্দ্র করে দেওয়া সব বদলির আদেশ বাতিল করা। বর্তমানে এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থসহ সব টার্মিনালেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কর্মবিরতির কারণে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালেই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে মিছিলটি বন্দর অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা প্রদান করে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে কর্তৃপক্ষ উল্টো দমন-পীড়ন ও বদলির মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে।

এ অচলাবস্থার কারণে চার দিন ধরে জাহাজ অপেক্ষমাণ থাকায় এবং পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিজিএমইএর সহসভাপতি সেলিমুর রহমান জানান, এ পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং পোশাক খাতের রফতানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রমিক নেতারা বলেছেন, দীর্ঘ সাত মাস ধরে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কর্ণপাত না থাকায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ছাড়া উপায় নেই। তারা দাবি করেছেন, গণবদলি বন্ধ এবং আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করা সকল শ্রমিক পুনরায় অ্যাক্টিভ করা হোক, এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ ও দায় স্বীকার জরুরি।