Hi

১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনকে ঘিরে মুখোমুখি ছাত্রদল-শিবির

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বিএনপি–ছাত্রদল ও জামায়াত–ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের অক্সিজেন–হাটহাজারী সড়কের এক নম্বর গেট এলাকায় রাত ১১টার পর থেকেই দুই পক্ষ স্লোগান দিতে থাকে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছুটা দূরে অবস্থান নিয়েছেন শিবিরের সমর্থকেরা। চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানও।

হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, “নির্বাচনে কারচুপি ও নানা অনিয়ম হয়েছে, তাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছি।” তবে শিবিরের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বলেন, “এক নম্বর গেট এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে, তবে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।

এদিকে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে অংশ নেয় ১৩টি প্যানেল, মোট ২৩২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৯০৮ জন প্রার্থী। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি ও হল সংসদের ১৪টি পদে ভোট হয়েছে ব্যালট পেপারে। গণনা চলছে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৮ জন। বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই গণনা শুরু হয়। হল সংসদের ফলাফল ভোটকেন্দ্রেই ঘোষণা করা হবে, আর কেন্দ্রীয় সংসদের ফল ঘোষণা করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য প্রতিটি অনুষদের ডিনদের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিভাগের সভাপতিরা দায়িত্ব পালন করেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে। শহরে থাকা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে শাটল ট্রেন ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

নির্বাচনকে ঘিরে মুখোমুখি ছাত্রদল-শিবির

আপডেট : ০১:৪৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বিএনপি–ছাত্রদল ও জামায়াত–ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের অক্সিজেন–হাটহাজারী সড়কের এক নম্বর গেট এলাকায় রাত ১১টার পর থেকেই দুই পক্ষ স্লোগান দিতে থাকে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছুটা দূরে অবস্থান নিয়েছেন শিবিরের সমর্থকেরা। চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানও।

হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, “নির্বাচনে কারচুপি ও নানা অনিয়ম হয়েছে, তাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছি।” তবে শিবিরের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বলেন, “এক নম্বর গেট এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে, তবে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।

এদিকে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে অংশ নেয় ১৩টি প্যানেল, মোট ২৩২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৯০৮ জন প্রার্থী। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি ও হল সংসদের ১৪টি পদে ভোট হয়েছে ব্যালট পেপারে। গণনা চলছে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৮ জন। বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই গণনা শুরু হয়। হল সংসদের ফলাফল ভোটকেন্দ্রেই ঘোষণা করা হবে, আর কেন্দ্রীয় সংসদের ফল ঘোষণা করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য প্রতিটি অনুষদের ডিনদের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিভাগের সভাপতিরা দায়িত্ব পালন করেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে। শহরে থাকা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে শাটল ট্রেন ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।