ভোলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এখন টিভির জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজুর রহমানের বাসায় বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে শহরের কালীবাড়ি রোডের ভদ্রপাড়া এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পরিবার জানায়, আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২২ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা। এর আগেও চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি একই বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছিল, যা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, আলমারিতে রাখা দুই জোড়া কানের দুল, চারটি সোনার আংটি- মোট সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, এক জোড়া রুপার পায়েল, নগদ ২২ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই বাসায় ফের চুরির ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে পরিবারটিতে।

ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে ইমতিয়াজুর রহমান ও তার স্ত্রী সাবিয়া আক্তার মিম কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। বাসায় ছিলেন ইমতিয়াজুরের মা রোকেয়া বেগম। রান্নাসহ গৃহস্থালির কাজ শেষ করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি পাশের বাসায় নিজের ভাইয়ের বাড়িতে যান। পরে পৌনে ১টার দিকে ফিরে এসে দেখেন বাসার প্রধান দরজা ভেতর থেকে আটকানো। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি চিৎকার করে স্থানীয়দের ডাকতে শুরু করেন। এ সময় পেছনের দরজা দিয়ে এক ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেন রোকেয়া বেগম।

বাসায় প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, ইমতিয়াজুরের কক্ষের দরজা ভাঙা। আলমারি ও ওয়ারড্রব লন্ডভন্ড অবস্থায় ছিল। ভুক্তভোগীর স্ত্রী সাবিয়া আক্তার মিম জানান, বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া গহনা ও নগদ জমানো টাকা খোয়া যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সাংবাদিক ইমতিয়াজুর রহমান মনে করছেন, চোরেরা দীর্ঘ সময় ধরে বাসাটির ওপর নজর রাখছিল। তিনি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভেতরে থাকা আলমারি ও ওয়ারড্রবের দরজাও ভাঙা এবং ঘরের মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এবারও বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে চুরি হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় ইমতিয়াজুর রহমান ভোলা সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই এসআই পলাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাংবাদিকের বাসায় চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।