জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের আকস্মিক ইউক্রেন সফরকে কেন্দ্র করে দেশটিতে তীব্র সামরিক অভিযান চালিয়েছে রাশিয়া। সফরের মধ্যেই রুশ বাহিনী কিয়েভের প্রধান সেতুগুলোতে টানা চতুর্থ দিনের মতো ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। রোববার সকালে পিভনিচনি (নর্দার্ন) সেতুতে চালানো এই হামলায় দুজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এর আগেও গত কয়েক দিনে একই সেতু এবং সপ্তাহের শুরুতে পিভদেননি (সাদার্ন) সেতুতে কয়েক দফায় হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে সেতুতে যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে, যা রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করেছে।

কিয়েভে অবস্থানকালে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মের্ৎস। তারা দুজনে যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মের্ৎস বার্তা দিয়েছেন যে, ইউক্রেন বর্তমানে এক অত্যন্ত সংকটপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং জার্মানির নিরাপত্তা এই যুদ্ধের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। ২০২৫ সালের মে মাসে চ্যান্সেলর হওয়ার পর থেকে জার্মানি ইউক্রেনের একক বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ইউক্রেনের আরও বেশি সহায়তার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মের্ৎসের মতে, রাশিয়াকে প্রতিহত করা না গেলে তাদের যুদ্ধযন্ত্র ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিপরীতে, রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনীয় সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম চলাচলের জন্য ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে তারা পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। বিবিসি কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, পিভনিচনি সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় ড্রোন আঘাত হানলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।

এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ১৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৫২টি ছিল জেটচালিত ড্রোন। দেশটির দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে ১২৫টি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাগুলোতে চলাচল সীমিত থাকায় রাজধানী কিয়েভে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।