ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিশ্বকে চমকে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর ফুটবলার কাভান সুলিভান। মাত্র ১৭ বছর ৫ দিন বয়সে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে তিনি দেশের ফুটবল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। রোববার অ্যারিজোনার গ্লেনডেলের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোকে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিতে বাড়তি খরচ, সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি বস্তিবাসী। গভীর রাতে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে। এই বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখে ফেললেন কাভান সুলিভান। চিলির বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-২ গোলের জয়ে গোলটি করেছিলেন তিনি। আমি এই মুহূর্তটাকে নিজের মধ্যে কল্পনা করেছি।

ম্যাচের ৬২ মিনিটে সুলিভানের গোলটি ছিল দেখার মতো। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রাউল রেঞ্জেল বক্সের বাইরে এসে ভুল পাস দিলে বল পেয়ে যান সুলিভান। অনেকটা দূর থেকে চিপ করে বল জালে জড়ান এই তরুণ। এই গোলটির মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ম্যাথিস আলবার্টের রেকর্ড। আলবার্ট ১৭ বছর ৩১ দিন বয়সে চিলির বিপক্ষে গোল করে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন। সুলিভানের এই পরিণত ফিনিশিং তার ফুটবল প্রতিভারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক মারা গেছেন। থামার সংকেত না মেনে এসআরবি কর্মকর্তাকে চাপা দিলো ট্রাক।

রেকর্ড গড়া গোলের মুহূর্তটি নিয়ে সুলিভান বলেন, শৈশব থেকেই তিনি এমন একটি মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছেন। তার ভাষায়, বলটি যখন বাতাসে ছিল, তখন কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলটি জালে জড়ানোর পর সবকিছু যেন ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। আগামী বছর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। রেকর্ড গড়া গোলের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সুলিভান বলেন, ‘আপনার বয়স যখন তিন, চার, পাঁচ কিংবা ছয় বছর, তখন আপনি এমন মুহূর্তেরই স্বপ্ন দেখেন।

ম্যাচটিতে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সূচনা হয় ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হলের মাধ্যমে। ২৮ মিনিটে তিনি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গত সপ্তাহে পেরুর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া হল টানা তৃতীয় ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন। প্রথমার্ধে মেক্সিকোর রক্ষণভাগের চাপের মুখে জিও রেইনার নিচু ক্রস গোলরক্ষক রেঞ্জেল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলটি জালে পাঠান হল।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকো সমতা ফেরানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তবে রবার্তো আলভারাদোর একটি জোরালো শট যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক দিয়েগো কোচেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দিলে ব্যবধান বাড়ার সুযোগ পায় যুক্তরাষ্ট্র। এর কিছু পরই সুলিভানের সেই জাদুকরী গোলটি আসে, যা ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের তৃতীয় গোলটি আসে ৮৪ মিনিটে। মেক্সিকোর রক্ষণভাগের একটি ভুল ব্যাকপাসের সুযোগ নিয়ে মালিক টিলম্যান বল দখলে নেন। এরপর নিখুঁত শটে বল গোলপোস্টের ওপরের কোণে পাঠিয়ে ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন তিনি। এই জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ফুটবলারদের আধিপত্য ও সামর্থ্যের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে।

এমএলএসের ২১ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে ফেলা সুলিভান জাতীয় দলের হয়ে খেলার দাবি জোরালো করলেন। কাভান সুলিভান বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালোলাগার কথা ব্যক্ত করেছেন, যা তাকে এ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।