চলমান পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত তথ্য
- বিক্ষোভের কারণ: শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও অতিরিক্ত ক্লাস সূচি।
- বন্ধ ঘোষণা: শুক্রবার (২ অক্টোবর) ৪ শতাধিক স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
- নিহত/আহত: ১ অক্টোবর সংঘর্ষে ৩০৫ পুলিশ ও জেন্ডারম এবং ১৭০ শিক্ষার্থীসহ ৬৫ শিক্ষা কর্মী আহত হয়েছেন।
- গ্রেপ্তার: আন্দোলন শুরুর পর প্রায় ২ হাজার মানুষকে আটক করেছে পুলিশ।
ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান নানাবিধ সংকট ও অনিয়মের প্রতিবাদে দেশটির ‘জেন-জি’ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আন্দোলনে নেমেছে। প্যারিসের আশপাশের এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সের মার্সেই, নঁত, স্ট্রাসবার্গ, তুলুজ ও লিলসহ বিভিন্ন বড় শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ক্লাস সূচি, প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জটিল প্রক্রিয়া নিয়েও তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন শহরে গণপরিবহন চলাচলও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জরুরি ভিত্তিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সংকট বৈঠক করেছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশজুড়ে চার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, যে সব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে ক্লাস চালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, ৪০০-এর কিছু বেশি স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং যেখানে সরাসরি পাঠদান সম্ভব নয়, সেখানে দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্যারিস অঞ্চলের কয়েকটি হাইস্কুলে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। স্ট্রাসবার্গে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং তুলুজে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। মার্সেইতে স্কুলের সামনে পেট্রল ব্যবহারের ঘটনায় শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন, নঁত ও রুয়াঁয় স্কুলে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ওইদিন একাই ১ হাজার ৯৪৯ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন। ফলে ‘প্রায় তিন হাজার’ আটকের দাবি না করে বর্তমান যাচাই করা হিসাবে ‘প্রায় দুই হাজার’ লেখা বেশি নির্ভুল।
এই আন্দোলন ঘিরে ফরাসি রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বামপন্থী দল ‘লা ফ্রঁস ইনসুমিজ’ (LFI)-এর নেতাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা দলটির আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার্ড অস্বীকার করেছেন। এছাড়া সাঁ-দেনির মেয়র ও LFI নেতা বালি বাগায়োকোর বিরুদ্ধে একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রচার এবং পুলিশের সামনে ‘সহিংসতা বৈধ’ বলে মন্তব্য করার দায়ে পুলিশ প্রিফেক্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট দাখিল করেছেন। তবে বাগায়োকো তার বিরুদ্ধে ওঠা অগ্নিসংযোগের অভিযোগ নাকচ করেছেন এবং তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। LFI-এর পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের কথা বলা হলেও পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়েছে।
সরকার এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে। শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট থেকে জন্ম নেওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
- কিশোর গ্যাং: আগামী ৩ মাসের মধ্যে উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপের।
- গ্রেপ্তার: জামায়াতে ইসলামীর নেতা আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার।
- হজ ভ্রমণ: আবেদনের পর ১৪ বছর অপেক্ষা করতে হয় যে দেশে।
- গবেষণা: প্রাক্তনকে ভুলতে সময় লাগে ৮ বছর।
- আন্তর্জাতিক: গ্রিসে গ্যাস বিস্ফোরণে ৪ মার্কিনিসহ ৬ জন নিহত।