সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি
- জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে: এগিয়ে রয়েছেন রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
- জ্বালানি তেলের দাম: বিশ্ববাজারে পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
- নেতানিয়াহুর ভাষণ: জাতিসংঘে বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের ওয়াকআউট।
- অস্ট্রেলিয়া: বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ স্থগিত।
- যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক: ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা।
- ট্রাম্পের অভিযোগ: সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে হামলার পেছনে ইরানের দায়।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্য: স্বৈরাচার ও গুপ্তচরের আঁতাত নিয়ে সমালোচনা।
- বিএনপি-জামায়াত: রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ।
- মোজতবা খামেনি: ইরানের শক্তির উৎস হিসেবে নামাজের গুরুত্ব।
- এলপিজি বিক্রয়: সরকারি দাম না মানলে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা।
সন্ত্রাসবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি এবং পাকিস্তান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে এখন টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই মতপার্থক্যের গভীরতা ফুটে উঠেছে। নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। ফলে বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতের ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকলেও, কৃষি খাতসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জটিলতায় এখনো কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। জয়শঙ্করের মতে, দুই দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও উৎপাদন ব্যবস্থায় মৌলিক পার্থক্য থাকায় চুক্তির অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় মন্থর। এছাড়া রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হুমকি সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশের অর্থনীতি, উৎপাদনব্যবস্থা ও সমাজের কাঠামোর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির বিষয়ে মোটামুটি একটি বোঝাপড়া তৈরি হলেও বাস্তবতার কারণে অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হয়েছে।
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের শিকার। জয়শঙ্করের মতে, ওয়াশিংটন ভারতের এই উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিশেষ করে কাশ্মীরের মতো দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপের মনোভাব নয়াদিল্লি ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা ভারতের কৌশলগত উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় নয়াদিল্লির উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।
অভিবাসন নীতি এবং এইচ-১বি ভিসা নিয়েও ভারত যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন যে, মানুষের চলাচলের সুবিধা বর্তমানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষক অজয় বিসারিয়ার মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও হার্শ পান্তের মতে ট্রাম্পের পাকিস্তানমুখী নীতির কারণেই এই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি কার্যকরে নিজের ভূমিকার দাবি নিয়েও নয়াদিল্লি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তবে এত কিছুর মধ্যেও দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চিয়েটিগ বাজপাইয়ের মতানুসারে, সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়লেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফোনালাপে। ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও কৌশলগত অবস্থানের সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে এই দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ। তবে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলেও দুই দেশই সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার পথে যাচ্ছে; এমনটি প্রতিবেদনে বলা হয়নি।