ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে ৬টি বিভাগ চালুর প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। মোট ৮টি শর্ত মেনে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৭টি অনুষদের অধীনে ১৫টি বিভাগ খোলার প্রস্তাব জমা দিয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কমিটি এই ৬টি বিভাগ চালুর সুপারিশ করে। বৃহস্পতিবার ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অনুমোদন পাওয়া বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স, কৃষি বিজ্ঞান অনুষদের কৃষি, কলা ও মানবিক অনুষদের মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের হিসাববিজ্ঞান, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের পরিবেশ বিজ্ঞান এবং লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের জনস্বাস্থ্য বিভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার শর্ত হিসেবে বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র, ভবনের নকশা ও একাডেমিক লে-আউট, পৌরসভার অনাপত্তিপত্র এবং ভাড়া নেওয়া ভবনগুলো শিক্ষা কার্যক্রমের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কোর্স কারিকুলাম চূড়ান্ত করা, প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরি সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিয়োগযোগ্য শিক্ষক ও জনবলের চাহিদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অধিগ্রহণ করা ৮০ একর নিষ্কণ্টক জমির দলিলাদি জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল বলেন, ৬টি বিভাগের অনুমোদন পাওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়টি যুক্ত হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁওয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বসবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম ভাড়া বাড়িতে চললেও, একাডেমিক কার্যক্রমও সেখানেই শুরু হবে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য সরকার ৮ দশমিক ৫৫ একর জমি অনুমোদন করেছে, যার ফিজিবিলিটি স্টাডি ও মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। আমরা আগামী ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করার টার্গেটে কাজ করছি। এটি একটি উৎসবের মতো হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।’। সেখানে কাজের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি, মাস্টারপ্ল্যানসহ প্রকল্প তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন।