সাভারের আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমে আয়োজিত ‘শিখো- জিপিএ-৫ সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে এসে বারবার বাবাকে মনে পড়ছিল নাহিয়া নাবার। ২০১৯ সালে বাবার হাত ধরেই সে প্রথমবারের মতো ফ্যান্টাসি কিংডমে এসেছিল। ২০২১ সালে করোনায় বাবার মৃত্যুর পর বাবার সঙ্গে কাটানো সেই মুহূর্তগুলো নাবার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে। টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া নাবা বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানে এইচএসসিতে পড়ছে। অনুষ্ঠানস্থলে এসে বাবার অভাব দারুণভাবে অনুভব করলেও সে দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছে, বাবার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সে। ছয় বছর পর সেই একই জায়গায় আবার এল সে। নাবা বলে, ‘আমার বাবার কথা ভীষণ মনে পড়ছে। ২০২১ সালে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় নাবার বাবা মারা যান। সে বলেছে, ‘অনেক ভালো লাগছে এখানে এসে। উৎসবে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

নাবার এই বিশেষ দিনে তার সঙ্গী হয়েছিল স্কুলের দুই বন্ধু মো. আলীফ ও সাজিদ হাসান অর্নব। স্কুলজীবন শেষ হলেও বন্ধুদের সঙ্গে এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত। আলীফ বর্তমানে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। অন্যদিকে, সাজিদ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশসেবার স্বপ্ন দেখছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিন বন্ধু কুইজ, পাজেল ও বল ব্যালান্সিংয়ের মতো বিভিন্ন খেলায় অংশ নেয় এবং বই, কলম ও চাবির রিংসহ নানা পুরস্কার জিতে নেয়। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে আনন্দময় দিন কাটাতে পারার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তারা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে। বাবা বেঁচে থাকলে আজও তাঁর সঙ্গেই আসতাম।’। নাবার সঙ্গে আসা আলীফ ও সাজিদও তার সহপাঠী ছিল।

‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে দেশের ৬৪ জেলার কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এই জিপিএ-৫ উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’। ঢাকা অঞ্চলের উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বুধবার সকাল নয়টা থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও একইভাবে ১০ হাজার শিক্ষার্থী ফ্যান্টাসি কিংডমে সংবর্ধনায় অংশ নিয়েছিল। আজ বিকাল চারটা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের আনন্দ উদ্‌যাপনে যোগ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও তারকা শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় রয়েছেন সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন। অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখতে উপস্থিত রয়েছেন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, গবেষক ও পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহী এবং ইউআইইউ মার্স রোভার টিমের কো টিম লিডার শেখ সাকিব হোসেন। শিক্ষার্থীদের গান ও আড্ডায় মাতিয়ে রাখার জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সংগীতশিল্পী তানভীর ইভান, জেফার রহমান এবং অভিনেত্রী সাফা কবির। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করছেন রাফসান শাবাব।

অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন কনকর্ড গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা অনুপ কুমার সরকার, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম এবং ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক) অধ্যাপক এইচ এম জহির। এছাড়া অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের অতিরিক্ত পরিচালক জাবের আহমদ, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান তালুকদার এবং আম্বার আইটি লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সুব্রত সরকার শুভ্রও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

পুরো আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা।