সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে দেশব্যাপী এক বিশেষ গণসংযোগ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এই দাওয়াতি কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানে সাধারণ মানুষকে দলের পতাকাতলে জড়ো করা। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবি এবং বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাত দফা দাবিতে আয়োজিত লংমার্চের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার দিকে বাড়তি নজর দিয়েছে দলটি। দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি নানা সেবামূলক ও সামাজিক কর্মসূচিও হাতে নেয় দলটি। তাদের মতে, এই গণসংযোগে আগামী স্থানীয় নির্বাচন এবং চলমান আন্দোলনের পক্ষে মাঠ প্রস্তুত হচ্ছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মাসব্যাপী গণসংযোগ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। উদ্বোধনী সেই আয়োজনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাবেক বিচারক ও কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬৫০ জন নতুন করে জামায়াতে যোগ দেন। তাদের স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানান জামায়াত আমির। একই দিনে তুরাগ দক্ষিণ থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের হাত ধরে উত্তর এলাকায় দাওয়াতি অভিযানের সূচনা হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলের নিয়মিত বার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আগস্ট মাসে মহিলা শাখার কার্যক্রমের পর সেপ্টেম্বরজুড়ে সাধারণ মানুষের কাছে দলের পরিচিতি তুলে ধরা এবং বিভিন্ন বই বিতরণের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আগের তুলনায় মানুষের মাঝে জামায়াত নিয়ে আগ্রহ ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, এলাকাভিত্তিক সফর, দায়িত্বশীল নেতাদের অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এ সময় ব্যাপকভাবে সাধারণ নাগরিকদের সংগঠন ও আন্দোলন বিষয়ে মতবিনিময় এবং আগ্রহীদের মাঝে জামায়াতের পরিচিতি ও বিভিন্ন বই বিতরণ করা হয়। ইসলামি আদর্শের পক্ষে কথা বলার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে আমরা এই কর্মসূচি পালন করছি। কোথায় কেমন কাজ হয়েছে, তা আমরা পর্যালোচনা করব। তবে এটি আসতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তৃণমূল ইউনিট থেকে এই গণসংযোগ কর্মসূচির বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সাত্তার সুমন জানান, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে বুথ বসিয়ে দাওয়াতি বই বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের প্রচারণাসহ পথসভা ও বাসা-অফিসে গিয়ে জনসংযোগ চালানো হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এই মাসব্যাপী কার্যক্রমে বেশ তৎপর ছিলেন। পর্যায়ক্রমে মহানগরী দক্ষিণের সব থানা ও ওয়ার্ডের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই গণসংযোগ চালানো হয়।
দেশবাসীর প্রতি দেওয়া এক বার্তায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের কারণে জামায়াত আজ গণমানুষের প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে, যার প্রমাণ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পাওয়া গেছে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন তুলে ধরেন যেখানে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং দুর্নীতি ও অবিচারের কোনো স্থান থাকবে না। ভাত, ভোট ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি দেশবাসীকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। আগামী দিনে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে রবের বিধানের দিকে ফিরে আসার ওপরও জোর দেন তিনি।