যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) গবেষকদের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের সময়ের সাথে মানুষের মেজাজ ও মানসিক সুস্থতার গভীর সংযোগ রয়েছে। প্রায় ১০ লাখ পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন যে, দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মানুষের মানসিক অবস্থা ও ভালো থাকার অনুভূতিতে বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, মানুষ সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সবচেয়ে ভালো মানসিক অবস্থায় থাকে। দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ সময় বিষণ্নতা ও উদ্বেগের লক্ষণ অনেক কম থাকে। পাশাপাশি সুখ, জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি এবং জীবনকে অর্থপূর্ণ মনে করার প্রবণতা সকালে বেশি কাজ করে। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ইতিবাচক অনুভূতিগুলো ফিকে হতে থাকে এবং মধ্যরাতের দিকে মানুষের মানসিক সুস্থতার সূচক সবচেয়ে নিচে নেমে আসে।
গবেষণায় কেবল সুখ নয়, বরং বিষণ্নতা, উদ্বেগ, একাকিত্ব এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মতো বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এই গবেষণায় ঋতুর প্রভাবও লক্ষণীয় ছিল। শীতকালের তুলনায় বছরের অন্যান্য সময় মানুষের মধ্যে একাকিত্ব ও উদ্বেগের মাত্রা কম এবং সুখের অনুভূতি বেশি দেখা গেছে।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এই ফলাফলই চূড়ান্ত নয়। মানুষের মানসিক অবস্থার ওপর ঘুম, কাজের ব্যস্ততা, সামাজিক সম্পর্ক এবং জীবনযাত্রার ধরন বড় ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে।
মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতার জন্য গবেষকরা কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। প্রতিদিন অন্তত ১৭ মিনিট বাইরে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুললে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দিনের আলো ও বাইরের পরিবেশ অনেকের ক্ষেত্রেই মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।