মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। তবে সেই হতাশা আঁকড়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই, কারণ সামনেই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। গত এক বছরে দুইবার মুখোমুখি হয়ে দুবারই হারের স্বাদ পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে, তাই ইন্দোনেশিয়ায় আসন্ন ম্যাচটি কেবল ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই নয়, বরং পুরোনো সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ারও বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন মিডফিল্ডার শমিত সোম। ডেঙ্গুতে একদিনে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড, মৃত্যু ৬। হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৯৬।

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মঞ্চে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর গত এক বছরে দুবার মুখোমুখি হয়েছে। প্রথমবার ২০২৫ সালের জুনে ঢাকার ম্যাচে ২-১ গোলে এবং পরবর্তীতে মার্চে সিঙ্গাপুরের মাঠে ১-০ গোলে পরাজয় মেনে নিতে হয় বাংলাদেশকে। প্রতিটি ম্যাচেই সুযোগ তৈরি করা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ায় হতাশা ছিল সঙ্গী। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নতুন কৌশলে মাঠে নামতে বদ্ধপরিকর শমিতরা। ‘নিয়ন্ত্রণহীন এআই’ নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন বিল গেটস। দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের জন্য হতাশার গল্পটা ছিল প্রায় একই, সুযোগ তৈরি করেও ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া যায়নি।

প্রতিপক্ষের খেলার ধরন সম্পর্কে বাংলাদেশ দলের ভালো ধারণা রয়েছে। শমিত সাংবাদিকদের জানান, সিঙ্গাপুরের সুনির্দিষ্ট একটি কাঠামো ও আইডেন্টিটি রয়েছে। তাদের মাঠের রোটেশন এবং নির্দিষ্ট দুই-তিনজন খেলোয়াড় বেশ বিপজ্জনক, যে বিষয়গুলো তাদের জানা। প্রতিপক্ষ আগের ম্যাচে যেভাবে সফল হয়েছে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের রক্ষণভাগ ও আক্রমণের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। ‘সিঙ্গাপুরের একটা স্ট্রাকচার আছে, একটা ভালো আইডেন্টিটি আছে, এরা যেভাবে খেলে সেটা আমরা জানি। এদের দুই-তিনটা রোটেশন আছে, যেগুলো ডেঞ্জারাস হয়।

সিঙ্গাপুরের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও খুঁটিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে সিঙ্গাপুরের ম্যাচটি বিশ্লেষণ করে নতুন কোচের অধীনে নিজেদের পরিকল্পনা প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। শমিতের ভাষায়, প্রতিপক্ষের স্ট্রেন্থগুলো কীভাবে সামলানো যায় এবং তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটি ভালো ফলাফল পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।

প্রতিশোধের বিষয়টি শমিতের মনে বাড়তি তাড়না জোগাচ্ছে। তার মতে, গত দুই ম্যাচের কোনো একটিতে বাংলাদেশ জয় বা অন্তত একটি পয়েন্ট পেতে পারত। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে নতুন উদ্যমে লড়াইয়ের জন্য এটিই সঠিক সময় বলে তিনি মনে করেন। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের হারের পর দলের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের পরিবর্তন আনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

দলীয় পারফরম্যান্স নিয়ে শমিত খোলাখুলিভাবেই জানান, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলা নিয়ে খেলোয়াড়রা কেউই সন্তুষ্ট নন। তবে সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত পরবর্তী ম্যাচে মনোযোগ দেওয়াটা এখন জরুরি। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের অভিজ্ঞতা থেকে আত্মবিশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে, যা কালকের ম্যাচে ভালো করার মোটিভেশন হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে বাড়তি কোনো অনুপ্রেরণার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন শমিত। একজন ফুটবলার হিসেবে জয়ের লক্ষ্য এবং ভালো খেলার তাড়নাটাই যথেষ্ট। কানাডাপ্রবাসী এই মিডফিল্ডার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পুরো শক্তির প্রয়োগ ঘটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীনদের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি।

সবশেষে শমিত প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগের ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন এক বাংলাদেশ দলকে মাঠে দেখা যাবে। দলের মধ্যে ইতিবাচক শক্তি ও এনার্জি রয়েছে। মালয়েশিয়ার ম্যাচে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা কাটিয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।