ব্রাজিলে অনলাইন স্পোর্টস বেটিং এবং ‘স্থির-অডস’ বা নির্দিষ্ট মুনাফাভিত্তিক বাজির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এক অস্থায়ী নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন তিনি। সরকার জানিয়েছে, নাগরিকদের বেটিং আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে এবং আর্থিক ঝুঁকি কমাতে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাও পাওলোতে সংবাদ সম্মেলনে লুলা এই সিদ্ধান্তকে কঠিন কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন। এমনকি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও তিনি বেটিং শিল্পের কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, এই শিল্প মানুষের আসক্তিকে পুঁজি করে মুনাফা অর্জন করছে।

অস্থায়ী এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও এটি পাকাপোক্ত করতে ১২০ দিনের মধ্যে ব্রাজিলের কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। সরকারি পরিকল্পনায় কেবল বেটিং নিষিদ্ধ করাই নয়, বরং স্থির-অডস বেটিংয়ের প্রচারণা এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কাজে লাগিয়ে তাদের প্রলুব্ধ করার মতো বিষয়গুলোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে একটি আলাদা বিলও প্রস্তুত করা হয়েছে। যদিও অনুমোদিত লটারিগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এদিকে, লুলার প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভোটের কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ঐতিহাসিকভাবে ব্রাজিলে জুয়া নিষিদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমেরের আমলে অনলাইন স্পোর্টস বেটিংয়ের পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তীতে জাইর বলসোনারোর শাসনামলে এই খাত ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লুলা সরকার বেটিং কোম্পানিগুলোকে করের আওতায় আনলেও প্রায় দুই হাজার অনিয়মিত ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলীয়রা প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন রিয়াইস পর্যন্ত অনলাইন বেটিংয়ে ব্যয় করছিলেন, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বেটিংয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও উঠে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে এই খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের স্পোর্টস বেটিং খাত থেকে বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এই আদেশের কারণে দেশটির ফুটবল ক্লাবগুলো বড় অংকের স্পনসরশিপ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তবুও পরিবার ও সমাজকে ঋণের জালে আটকে পড়া থেকে সুরক্ষা দিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে না। ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের হিসাবে, ব্রাজিলে স্পোর্টস বেটিং থেকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হতো। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবারগুলোকে ঋণ ও বেটিং আসক্তির ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।