কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িত সন্দেহে আটক ২৮ কিশোরের মধ্যে ১৭ জনের পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বুধবার রাত ৯টার দিকে থানার একটি বিশেষ কক্ষে রাখা আটককৃতরা দরজা ভেঙে এবং প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়, যেখানে ভাঙা দরজা ও চেয়ার পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

তবে এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুল ইসলাম পলাশ। তিনি জানান, সেখানে কোনো ভাঙচুর বা আসামি পলায়নের ঘটনা ঘটেনি। ওসি’র দাবি, কেবল একটি প্লাস্টিকের চেয়ার উল্টে গিয়েছিল। তিনি আরও জানান, অভিযানে আটক ২৮ জনকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, একই কক্ষে অতিরিক্ত মানুষ থাকায় সেখানে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের ভিড়ে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছিল।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষিকা নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিমের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার পর জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের দৌরাত্ম্য নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার রাতে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এই রাতব্যাপী অভিযানে মোট ৬২৪ জনকে কিশোর গ্যাং ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ পুরো জেলার প্রতিটি থানায় এই অভিযান চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ১৭ জন কিশোর থানার বাইরে চলে যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিমের খুনের ঘটনার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আবারও আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় কক্ষটির কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ারও ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সাথে অনেককে আটক করায় সাধারণ মানুষ থানায় ভিড় করে কারণ জানতে চায় এবং হট্টগোল তৈরি হয়।