ইসরাইলের আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বুধবার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে প্রধান দুই আরব জোটকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা ‘রা’আম’ এবং হাদাশ, তা’আল ও বালাদ-এর সমন্বয়ে গঠিত ‘জয়েন্ট লিস্ট’—উভয় জোটই এই সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে। একইসঙ্গে কমিটি বালাদ নেতা সামি আবু শেহাদেহ এবং হাদাশের আইনপ্রণেতা ওফের ক্যাসিফকেও নির্বাচনে নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়; চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি দেশটির সুপ্রিম কোর্টের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

ইসরাইলের সংসদীয় আইন ‘বেসিক ল: দ্য নেসেট’-এর ৭এ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রের ইহুদি ও গণতান্ত্রিক চরিত্রকে অস্বীকার, বর্ণবাদে প্ররোচনা অথবা সশস্ত্র সংগ্রামের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের অভিযোগে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিটির এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দল ও প্রার্থীগণ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অভিযুক্ত আরব দলগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের নিষিদ্ধ করার এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের মতে, এটি মূলত ইসরাইলের আরব নাগরিকদের যথাযথ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সীমিত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

নির্বাচনী সমীকরণে আরব দলগুলোর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১২০ আসনের নেসেটে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট সাতটি এবং রা’আম পাঁচটি আসন পেতে পারে। ফলে এই জোটগুলো যদি নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে সরকার গঠনের সামগ্রিক গাণিতিক হিসাবে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এখন সুপ্রিম কোর্টের ওপর নির্ভর করছে দল ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণাদি আইনত গ্রহণযোগ্য কি না। আদালতের চূড়ান্ত রায়ই নির্ধারণ করবে আগামী অক্টোবরের ব্যালটে তারা থাকতে পারবেন কি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাম্প্রতিক একটি জরিপে জয়েন্ট লিস্টের সাতটি এবং রামের পাঁচটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।