বরগুনার বেতাগী উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পুলিশকে বিষয়টি জানানোর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়সাল মৃধা (২৩) নামে এক যুবক তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছেন। হামলায় শিশুটির পাঁচটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি উপড়ে গেছে এবং দু’টি ভেঙে গেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ফয়সাল উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের ফরিদ মৃধার ছেলে এবং সম্পর্কে ওই শিক্ষার্থীর দূরসম্পর্কের মামা বলে জানা গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। গত শনিবার রাতে শিশুটি বাড়ির বাইরে টয়লেটে গেলে ফয়সাল তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এলে ফয়সাল পালিয়ে যান। ওই রাতে ভুক্তভোগীর মা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে বেতাগী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিসের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

তবে সালিশের দুই দিন পর সোমবার স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ফয়সাল ওই ছাত্রীর ওপর পুনরায় হামলা চালান। অভিযুক্ত যুবক তাকে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারলে শিক্ষার্থী রক্তাক্ত জখম হয়। তার সহপাঠীরা বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। শিক্ষার্থী ও তার পরিবার জানিয়েছে, শনিবারের ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও অভিযুক্তের মা শিরিন বেগম পুলিশকে অভিযোগ করার কারণে তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্ত ফয়সালের মা শিরিন বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছেন। বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশীদ হাওলাদার বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং প্রধান আসামির মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষার্থীর মা জানান, শনিবারের ঘটনার পর প্রতিকার চেয়ে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় শিক্ষার্থীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত শনিবার টয়লেটে গেলে টয়লেটের ফাঁক দিয়ে তার শরীরে হাত দেন ফয়সাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’।