সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর থেকে তাদের বিয়ের শরিয়াহসম্মত বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর দেওয়া পারিবারিক সম্পর্কের তথ্যের ভিত্তিতে ইসলামি ফিকাহ শাস্ত্রের কয়েকটি বিধানের আলোকে বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

মরিয়মের বাবার দাবি অনুযায়ী, গাজী নজরুল ছিলেন তার আপন খালু। আবার নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম সম্পর্কে মরিয়মের দাদি মাছুমার আপন বোন এবং মরিয়মের বাবার খালা। এই তথ্য সঠিক হলে শরিয়াহর দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ইসলামি শরিয়তে একই পুরুষের জন্য এমন দুই নারীকে বিবাহবন্ধনে রাখা নিষিদ্ধ, যাদের মধ্যে একজন অন্যজনের খালা বা ফুফু। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসসহ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার ‘মাজমুউ ফাতাওয়া’য় এ ধরনের সম্পর্কের অসংগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ফিকহ শাস্ত্র অনুযায়ী, এ ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আলেম ও বিশেষজ্ঞরাই চূড়ান্ত মতামত দিতে পারেন।

এই বিয়ের বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে আসে গত জুলাই মাসে, যখন গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর একান্ত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি মরিয়মকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে, যা সে সময় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ গাজী নজরুল ইসলাম, প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ গাজী নজরুল ও মাকসুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর আদালত গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকসুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণসহ বিয়ে সংক্রান্ত এই জটিল আইনি ও ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সম্পর্ক সঠিক হলে, প্রথম স্ত্রী বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় তার ভাইয়ের মেয়ের মেয়েকে বিয়ে করা নিয়ে শরিয়াহগত প্রশ্ন তৈরি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: থেকে বর্ণিত হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিকহের ব্যাখ্যায় এ নিষেধাজ্ঞা শুধু সরাসরি খালা বা ফুফুর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; নির্দিষ্ট কিছু ঊর্ধ্বতন প্রজন্মের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও বিয়ের শরিয়াহগত অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আলেম ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর নির্ভর করবে।