কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপকের সন্তান অপ্রতিম শাহরিয়ারের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। রোববার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই আসামিরা পরিকল্পিতভাবে অপ্রতিমকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এই ঘটনার সাথে জড়িত সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ফাহাদ এবং কামরুল নামে তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের তথ্যমতে, অপ্রতিমকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনার মূল হোতা ছিল তুহিন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানায়, গত শুক্রবার বিকালে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিম তার মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে তাকে কোটবাড়ির সানন্দা পাহাড়ের নির্জন বন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে আসামিদের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পর অপ্রতিমের আইফোনটি নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। পুলিশ পরে তুহিনের বাসার তোশকের নিচ থেকে আইফোনটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে, যার সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার বিকালেই অপ্রতিম নিখোঁজ হলে তার সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছিলেন মা ড. নাহিদা বেগম। পরবর্তীতে শনিবার মধ্যরাতে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে তুহিন ও অন্য দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, তুহিন ও অপ্রতিমের বয়সের ব্যবধান উল্লেখ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট বা প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে রামিসা হত্যা মামলার মতো এই ঘটনাতেও বিচারের জন্য পুলিশ দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘একটানা জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তুহিন স্বীকার করে যে, ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ঘটনায় ফাহাদ এবং তার আরেক এক বন্ধু জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইফোনটি পেতে তিন জায়গায় আমরা অভিযান চালাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি—ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দ নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আসামিরা।