অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বিতর্কিত পরিকল্পনা আটকে দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত। বোস্টনের ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের প্যানেল শুক্রবার তাদের আগের একটি সিদ্ধান্ত বহাল রাখার মাধ্যমে এই রায় দেয়। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের এক রায়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল। বিষয়টি এখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালতের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো অভিবাসীকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা বা নির্যাতনের ঝুঁকির বিষয়ে আপত্তি জানানোর ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। বিচারকরা বলেন, আইনে নির্ধারিত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে কাউকে এমন দেশে পাঠানো যাবে না, যার সঙ্গে ওই অভিবাসীর কোনো ধরনের সংযোগ বা সম্পর্ক নেই। তবে পদ্ধতিগত কারণে আগের রায়ের একটি অংশ আদালত বাতিল করেছে, যা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এমন দেশে পাঠানোর চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল যেখানে তাদের কোনো ব্যক্তিগত সংযোগ রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘থার্ড কান্ট্রি ডিপোর্টেশন ওয়াচ’-এর তথ্য বলছে, ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশের সঙ্গে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ফেরত পাঠানোর চুক্তি করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকসহ আটজনকে দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর পথ পরিষ্কার করেছিল, যদিও দেশটিতে অপরাধ ও সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতা রয়েছে।
চলতি মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত নীতির ওপর বেশ কিছু আইনি চ্যালেঞ্জ এসেছে। অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে সীমাবদ্ধতা আরোপের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তাও একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশে আপাতত আটকে গেছে।