প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর তাঁর সাবেক স্বামী ও বর্তমান রাজা চার্লসকে দেখে মনে হয়েছিল তিনি যেন লটারি জিতেছেন। ডায়ানার ভাই চার্লস স্পেন্সারের নতুন একটি বইয়ে এই বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে, যা সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে প্যারিসে সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৩৬ বছর বয়সে প্রেমিক দোদি আল-ফায়েদসহ প্রিন্সেস ডায়ানা নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ঠিক পরবর্তী মুহূর্তগুলো নিয়ে স্পেন্সার বইটিতে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।
স্পেন্সারের ভাষ্যমতে, ডায়ানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই চার্লসকে অন্য সবার মতো শোকাতুর বা বাক্রুদ্ধ মনে হয়নি। তৎকালীন প্রিন্স চার্লসকে বরং বেশ প্রফুল্ল ও উচ্ছ্বসিত দেখা গিয়েছিল। স্পেন্সার লিখেছেন, ‘শোকের মুহূর্তে চার্লসের কণ্ঠে কোনো আক্ষেপ বা গলা ধরে আসার চিহ্ন ছিল না। তখন আমার মনে হয়েছিল, তিনি যেন একটি লটারি জিতেছেন।’ স্পেন্সারের মতে, চার্লস তখন ডায়ানাকে হারানোর ব্যথার চেয়ে পছন্দের মানুষ ক্যামিলা পার্কারকে বিয়ে করার সুযোগের কথাই বেশি ভাবছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই চার্লস ও ক্যামিলার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১৯৯২ সালে চার্লস ও ডায়ানা আলাদা হয়ে যান এবং ১৯৯৬ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডায়ানা তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের বিয়েতে আমরা আসলে তিনজন ছিলাম’, যা ক্যামিলার উপস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করত। শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালে ক্যামিলা পার্কারকে বিয়ে করেন চার্লস।
বইয়ের এই বিস্ফোরক দাবি সম্পর্কে চার্লসের মুখপাত্র জানান, শোক মানুষের যুক্তি, বিচারবোধ ও স্মৃতিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রাজপ্রাসাদ থেকে বইটির নতুন প্রকাশিত অংশ নিয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। স্পেন্সারের বইয়ে আরও দাবি করা হয়েছে যে, জীবনের শেষ দিকে চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে ডায়ানা নিজেই গাড়ি চালিয়ে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলে আত্মহত্যার জন্য পরিচিত একটি জায়গায় গিয়েছিলেন। তবে নিজের দুই সন্তান প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির কথা ভেবে তিনি সেই পথ থেকে সরে আসেন।
উল্লেখ্য, ডায়ানার বিখ্যাত সেই ‘প্রতিশোধের পোশাক’টিও এখন নিলামে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন ও রাজপরিবারের অন্তরালের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে স্পেন্সারের এই নতুন বই এখন যুক্তরাজ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।