জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তবে সরকারি কোষাগারের অর্থ সাশ্রয় এবং ব্যক্তিগতভাবে দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় না থাকার নীতি অনুসরণ করে তিনি তার সফরের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছেন। এর অংশ হিসেবে তার পূর্বপরিকল্পিত সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বিদেশ সফর। সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমান। মূল পরিকল্পনায় জাতিসংঘের কর্মসূচির পরপরই ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেখা করা এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সফরসূচি কাটছাঁট করায় এসব কর্মসূচি বাদ পড়ছে এবং তার সম্পূর্ণ সফর এখন নিউইয়র্ককেন্দ্রিক হচ্ছে।
এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সময়ে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি বিশ্বমঞ্চে এক ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক আবহ তৈরি করেছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজে বিশেষ গুরুত্ব থাকছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সংবর্ধনা জানাবেন।
সফরসঙ্গীদের বহর নিয়েও এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের কম রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে জাতিসংঘ সফরে বড় বহর পাঠানোর রীতি থাকলেও এবার তা সীমিত করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৮০ জন, ২০১৯ সালে ২৯২ জন এবং ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ৫৭ থেকে ৮০ জনের অধিক সদস্য গিয়েছিলেন। এবার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য অপরিহার্য ব্যক্তিদেরই কেবল বহরে রাখা হচ্ছে, যার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই সমাধান এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বনেতাদের সামনে স্পষ্ট করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সরকারের রূপরেখা তার বক্তব্যে প্রাধান্য পাবে। সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে। জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই গুরুত্বপূর্ণ সফরেই বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো দেশ ছাড়ছেন জাতীয়তাবাদী সরকার প্রধান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে না থাকা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সফরটি সংক্ষিপ্ত করার আগ্রহ জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু কর্মসূচি থাকলেও সফরের প্রধান আয়োজন থাকবে জাতিসংঘকে ঘিরেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের তুলনায় এবারের বহর ছোট: শুধু কর্মসূচিই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর বহরও ছোট করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের সরকারগুলোর সময়ে জাতিসংঘ সফরে বড় বহর যাওয়ার নজির রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৮০ জন সফরসঙ্গী নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন।