নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ পর্যন্ত উপজেলায় ৫০টিরও বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তবে মোহনগঞ্জ জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগে চুরির সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৫টি। উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর, বড়তলী-বানিয়াহারী, তেতুলিয়া, সমাজ-সহিলদেও, সোয়াইর ও গাগলাজুর ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষি মাঠে বর্তমানে অসংখ্য ট্রান্সফরমারবিহীন বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। কৃষকদের আশঙ্কা, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের আগে এসব ট্রান্সফরমার পুনরায় স্থাপন করা না হলে সেচ সংকটে বিশাল এলাকা অনাবাদি পড়ে থাকবে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
- মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন রনু জানান, গত ১৮ আগস্ট রাতে তার সেচের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, বিদ্যুৎ বিভাগের লোক ছাড়া এভাবে জীবন্ত লাইন থেকে ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া কারিগরিভাবে সম্ভব নয়।
- একই ইউনিয়নের পেরিরচর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার সেচের ট্রান্সফরমারটিও চুরি হয়েছে। ৭০ হাজার টাকা খরচ করে নতুন ট্রান্সফরমার কেনার সামর্থ্য আমার নেই।
- সোয়াইর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের কৃষক বজলুর রশিদ খান জানান, তার ট্রান্সফরমার দুই বার চুরি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ অফিস ও থানায় যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।
বিদ্যুৎ অফিস ও পুলিশের বক্তব্য
মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম রফিকুল ইসলাম জানান, জুনে ১৫টি, জুলাইয়ে ১৩টি, আগস্টে ৯টি এবং সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ২টি ট্রান্সফরমার চুরির লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। চুরি হওয়া গ্রাহকদের বিনামূল্যে ট্রান্সফরমার দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতে এমন কোনো নিয়ম নেই, তবে সরকারি ফি জমা দিলে দ্রুত নতুন সংযোগ দেওয়া হবে। এদিকে মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন। ইতিমধ্যে চোর চক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চুরি রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।