আজ বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং শিক্ষক নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. নূরুল হুদার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৩ সালের এই দিনে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর সহধর্মিণী ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল পরলোকগমন করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া চাওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন মাওলানা নূরুল হুদা। তিনি কওমি ও আলিয়া উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনকারী এক বিরল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পবিত্র কুরআন, হাদিস, ফিকহ এবং আরবি সাহিত্যে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল, যার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য দক্ষ আলেম তৈরি করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পুবাইলে অবস্থিত হারবাইদ দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শিক্ষার প্রসারে প্রিন্সিপাল নূরুল হুদা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর আল-হেলাল স্কুল ও আল-হেলাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, মানিকদি সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল এবং সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ও ভাদাদিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব হিসেবেও আমৃত্যু নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

একজন দেশবরেণ্য ওয়াজে হিসেবে পরিচিত মাওলানা নূরুল হুদা একাধিক মসজিদের খতিব ছিলেন। তিনি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নূরাইন ফাউন্ডেশন’-এর পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ও মাদরাসা শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে এবং ইসলামবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘সংবাদদাতা’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাত কন্যা ও চার সন্তানের জনক। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক। মেজো ছেলে এম এনায়েত উল্লাহ কমফোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত। সেজো ছেলে মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক এবং আল-হেলাল স্কুলের প্রিন্সিপাল। এছাড়া তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।