জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার কেবল সাময়িক পদক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘ইআরএফ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকট একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যেন ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই সরকার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো অজুহাত দেখাতে চায় না, বরং সমস্যার টেকসই সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অতীতের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। তখন অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আগের সরকারের আমলের বৈশ্বিক পরিস্থিতির দায়ভার মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালন করা বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো সমীচীন নয়। তিনি দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক ভাষা শেখার ওপর জোর দেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, তরুণরা যদি তিন থেকে চারটি ভাষা আয়ত্ত করতে পারে, তবে দেশেই বসে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ এখন বাস্তব। তাই বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ভাষা শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তিনি ইআরএফের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
ইআরএফের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, পেশাগত মানোন্নয়নে রিপোর্টারদের ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। এছাড়া চীনা, জাপানি ও ফরাসি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহ সহজতর হবে।
হেডম্যান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, আনন্দদায়ক পরিবেশে ভাষা শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর। প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন ভাষা শেখার উদ্যোগকে তিনি দেশসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেন।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা জানান, সদস্যদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। এটি কেবল রিপোর্টিংয়ের কাজকেই সহজ করবে না, বরং বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তা ও বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগেও সহায়ক হবে। একাধিক ভাষা শেখার সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনে বিদেশি দূতাবাসগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও ইআরএফ কাজ করছে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য ইআরএফকে সদস্যদের ভাষা শেখানোর কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় যে ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ ধারণা অকল্পনীয় মনে হতো, তা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে তরুণদের পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে একাধিক ভাষা শেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।