সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা এড়িয়ে মাত্র ছয় মাসের মাথায় রাজপথে লংমার্চের নামে বিরোধীদল গণতন্ত্র বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, বিরোধীদল লংমার্চের কর্মসূচির আড়ালে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে, যা স্পষ্টত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে তারা একে দমন-পীড়ন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

জ্বালানি সংকট ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা কেবল সমালোচনাতেই ব্যস্ত, অথচ সংকট নিরসনে কোনো গঠনমূলক প্রস্তাবনা তাদের নেই। সংসদে পরামর্শ না দিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক অর্জনগুলোকেও তারা জনগণের সামনে আড়াল করার চক্রান্ত করছে। সরকার ব্যর্থ—এমন দাবি তুলে রাজপথে আন্দোলন করলেও সাধারণ মানুষ তাদের এই ভূমিকা ইতিবাচকভাবে দেখছে না বলে তিনি দাবি করেন। দায়িত্বশীল বিরোধী দলের মতো সংসদে দাবি না তুলে রাজপথ বেছে নেওয়া মূলত সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লাগানো সব বিলবোর্ড ও ব্যানার অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হবে।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এবং স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।