ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত কৃষক মোশাররফ (৪৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে তাকে আর হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ৫ নম্বর বেডে পাওয়া যাচ্ছে না। বেলা আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বেডটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে পড়ে থাকা দুটি এক্স-রে ফিল্ম এবং কিছু ওষুধের প্যাকেট ছাড়া আর কোনো চিহ্ন নেই।

হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে মোশাররফকে ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তার শরীরে আনুমানিক ৮০ থেকে ১০০টি বা তার চেয়েও বেশি ছররা গুলি রয়েছে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. উপল চৌধুরী জানান, সাধারণত এসব ছররা গুলি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না, সময়ের সঙ্গে তা শুকিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের নিয়মিত রাউন্ডের পর থেকেই রোগীকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পাশের ৬ নম্বর বেডের রোগী জাহেদুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক মোশাররফের সাক্ষাৎকার নিতে এসেছিলেন। এরপর থেকেই তাকে আর দেখা যায়নি। জাহেদুল আরও জানান, মোশাররফের সঙ্গে যারা ছিলেন, তারা এই ঘটনার বিষয়ে এক ধরনের লুকোচুরি করছিলেন এবং তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ক্যাজুয়ালটি বিভাগের আয়া মিনারার ধারণা, রোগী সম্ভবত হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন, তবে তিনি কীভাবে বের হলেন তা স্পষ্ট নয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ ফাঁড়ি—কেউই মোশাররফের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না। চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, সকাল ১১টার পর থেকে রোগীর অবস্থান সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, রোগী কোথায় গেছেন তা তাদের জানা নেই, তবে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।

এদিকে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, তারা জানতেন মোশাররফ চমেকে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি সেখানে না থাকলে তাদের পক্ষে তা জানা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতার আগমন কেন্দ্রিক ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চমেকের রেজিস্টার বই অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তাকে ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি করে ৫ নম্বর বেড বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভর্তির সময় সঙ্গে পুলিশও উপস্থিত ছিল।