বাংলাদেশে সক্রিয় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। শুক্রবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট প্রোডাক্ট অ্যান্ড রুলস’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, শুরুতে এসব কোম্পানিকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পুঁজিবাজারে আসার জন্য উৎসাহিত করা হবে। তবে কোম্পানিগুলো যদি তাতে সাড়া না দেয়, তবে জনস্বার্থ রক্ষায় কমিশন আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের পথ বেছে নিতে পিছপা হবে না।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই বাংলাদেশের বাজার নিয়ে তাদের বিশেষ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমএসসিআই ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশের সূচকের নিয়মিত পর্যালোচনা এবং করপোরেট ইভেন্ট বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে। এটি দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক দিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজারের আধুনিকায়নে কমিশনের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে বাজার তদারকি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক সার্ভেইলেন্স সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে বাজারের স্বচ্ছতা ও নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বন্ড বাজারের প্রসারেও কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির ফি কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। এর মাধ্যমে দেশের বন্ড বাজার ধীরে ধীরে বড় হবে এবং পুঁজিবাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুঁজিবাজারের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিএসইসি ধারাবাহিকভাবে সংস্কারমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি অনুষ্ঠানে জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে তারা না এলে জনস্বার্থে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগও রয়েছে।