নেপালের হিমালয় অঞ্চলে প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঘটনায় ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চার কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া দুই কর্মীকে দীর্ঘ ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অত্যন্ত প্রতিকূল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকর্মীরা এই সাফল্য অর্জন করেন। নুয়াকোট জেলার পুলিশ প্রধান বিপিন রেগমি জানান, নিখোঁজ ৪২ জন কর্মীর সন্ধানে সুড়ঙ্গে বোরিং বা ছিদ্র করে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধারকারীরা ভেতরে মানুষের আওয়াজ শুনতে পান। এরপর মাটির সরু গর্ত দিয়ে ওই দুই কর্মীকে নিরাপদে বের করে এনে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলে সিমেন্টের মতো ঘন কাদামাটি ও পাথর ধসে নেপালজুড়ে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। নিখোঁজদের তালিকায় চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের অনেক বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যাদের জীবিত পাওয়ার আশা প্রায় ক্ষীণ হয়ে এসেছিল। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল পরীক্ষিত মেহরা জানান, সাধারণত সুড়ঙ্গ ধসের ঘটনায় প্রথম ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ২৪ থেকে ২৫ ঘণ্টা কাটালে মানুষ দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং ৪৮ ঘণ্টার পর বিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে ৯ দিন পর দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করাকে তিনি অলৌকিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে সুড়ঙ্গের গভীর অংশে আটকে থাকা অন্যদের উদ্ধারে তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভেতর থেকে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বন্যার ৯ দিন পর নেপালের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ২ কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে আরো মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।