কুয়েতে চালানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাহরাইন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই হামলা কুয়েতের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির পরিপন্থী। বাহরাইন কুয়েতের নিরাপত্তাকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই ধরনের আগ্রাসন উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের এই সামরিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের চলমান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে বাহরাইন। একই সঙ্গে ইরানকে আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য দৃঢ় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে চলাচল নিরাপদ রাখা এবং জলদস্যুতা প্রতিরোধের জন্যও তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাহরাইন।

এর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করে যে, তারা কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামরিক স্থাপনা ও যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের আবাসস্থল ও রাডার ব্যবস্থায় হামলার দাবিও করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। আঞ্চলিক এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।