আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলীয় সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের বর্তমান সংকট নিয়ে জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে চায় না, বরং জনগণকে প্রকৃত তথ্য জানাতে চায়। বর্তমানের এই সংকট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি এবং এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করলে শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই তিন খাতে ভারসাম্য বজায় রেখে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তিমতো ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপের কারণ হিসেবে তিনি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) বা ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটিকে দায়ী করেন। গত ২১ জুলাই এই টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেয়, যা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লেগেছিল। তবে এরই মধ্যে সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগস্ট মাসে মানুষ যে ভোগান্তিতে পড়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। এছাড়া আগামী গ্রীষ্মে সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বিদ্যুৎ নিয়ে জনদুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের উদ্বেগ অত্যন্ত স্বাভাবিক। জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা এবং এ খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, আগস্টে দেশের মানুষকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে যেন সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।