নাটোরের গুরুদাসপুরে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবহার উপযোগী একটি ভবন ও দুটি টিনশেড ঘর ভেঙে বিক্রির ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে। টেন্ডার বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি সম্পদ বিক্রির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনা তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার, উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া, বিএডিসি প্রকৌশলী সাইদুর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। তদন্ত কমিটির প্রধান কে এম রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন দুই কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন ও দুটি টিনশেড ঘর ভেঙে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। অথচ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ইউজিডিপি ও জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করেছিল, যা ২০২৩ সালে উদ্বোধন করা হয়। ওই স্থানেই ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, জায়গা সংকটের কারণে পুরোনো ভবনগুলো ভাঙা হয়েছে এবং তার কাছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন রয়েছে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ জানান, ভবন ভাঙা বা বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাকে প্রতিষ্ঠানের কোনো হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নতুন ভবন ভেঙে বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।