প্রান্তিক ও জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে খ্যাত এই পুরস্কারের জন্য রুনা খানের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক ও আইনজ্ঞ টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো চি-কেও নির্বাচিত করা হয়েছে।
পুরস্কারের প্রেক্ষাপট ও আদর্শ
র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের ভাষ্যমতে, ২০২৬ সালের বিজয়ীদের এমন সব কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের আদর্শ ও চিরস্থায়ী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়। এর মধ্যে রয়েছে নিঃস্বার্থ জনসেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষকে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে সক্ষম করে তোলা। উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ ফিলিপাইনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসাইসাই এক মর্মান্তিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তার স্মৃতি ও আদর্শকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে একই বছর গঠিত হয় ‘র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন’ এবং ১৯৫৮ সাল থেকে নিয়মিত এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রম ও সমাপনী আয়োজন
- রুনা খান ২০০২ সালে সামাজিক উদ্দেশ্যেভিত্তিক সংস্থা (এসপিও) ‘ফ্রেন্ডশিপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সংস্থাটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
- গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত, চরম দরিদ্র, বৈষম্যের শিকার এবং পরিবেশগত সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মর্যাদা ও আশা নিয়ে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ তৈরিতে কাজ করে চলেছে রুনা খানের এই প্রতিষ্ঠান।
- আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে এক জমকালো সমাপনী আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে এ বছরের র্যামন ম্যাগসাইসাই উৎসবের সূচনা হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে, যা বিশ্বজুড়ে মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সমাদৃত। রুনা খানের এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।