নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৮৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ, যাদের উদ্ধারে চলছে ব্যাপক তৎপরতা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, শুধু নেপালেই ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বত অঞ্চলে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৪ জন। তিব্বতে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এই দুই অঞ্চলে নিখোঁজের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৭৮ জনে।

দুর্যোগ কবলিত এলাকায় বিদেশি পর্যটক ও কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৫১৭ জন বিদেশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চীনা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তিব্বত অঞ্চলে নিখোঁজ বিদেশির সংখ্যা ২৬০ জন। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে নিখোঁজ বিদেশিদের সংখ্যা অন্তত ৭৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের শুক্রবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬২২ জন পর্যটক এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন, যার মধ্যে ৪৭৩ জন বিদেশি নাগরিক। বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১২১ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি কর্মীসহ মোট কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার সঠিক সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।

মৃতের সংখ্যার বিষয়ে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা শুক্রবার জানায়, তাদের দেশে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫৭৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর সঙ্গে চীনের পক্ষ থেকে শনিবার ভোরে জানানো সাতজনের মৃত্যুর তথ্য যোগ করলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮৬ জন।

পর্যটন বোর্ডের তথ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১৪৯ জন নেপালি পর্যটকের কথা উল্লেখ থাকলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা ১২৭। এদিকে, নেপালের বিভিন্ন হ্রদে নতুন করে পানি জমতে শুরু করায় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে নেপাল উদ্ধারকাজে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে অনীহা দেখালেও কূটনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। এখন থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিদেশি সহায়তা গ্রহণ করবে দেশটি।