নেপালে গত বুধবার আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৮০০ জনই বিদেশি নাগরিক। পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা ও পানির প্রবল স্রোতকে বিশেষজ্ঞরা ‘তরল কংক্রিটের’ সঙ্গে তুলনা করছেন, যা থেকে রক্ষা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন, ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস থেকে এই দুর্যোগের সূত্রপাত হতে পারে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সেখানে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিশ্লেষণ বলছে ভূমিধসের কারণেই ওই ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। কাঠমান্ডু-ভিত্তিক সংস্থা আইসিআইএমওডি-এর রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ সার্থক শ্রেষ্ঠের মতে, নেপাল অংশে পাথুরে বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
টেক্সাস ইউনিভার্সিটি সান আন্তোনিওর জলবিজ্ঞানী হাতিম শরিফ জানান, দুর্যোগের আগে ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি, যা প্রচলিত বন্যা সতর্কতা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দৌড়ে পালানোর চেয়ে অন্তত ২০ ফুট উঁচুতে উঠে যাওয়া প্রাণরক্ষার একমাত্র কার্যকর কৌশল।
যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডরোথি হাইনরিচ জানান, নেপালের সংকীর্ণ পাহাড়ি নদীগুলো তুষারধস বা ভূমিধসের কারণে সহজেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, যা পরে প্রবল ঢলের জন্ম দেয়। আইসিআইএমওডির জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং উজানে নদীর গতিপথ এখনো আটকে থাকার আশঙ্কায় দ্বিতীয় দফার বন্যার সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
হিমালয়ের হিমবাহের হ্রদ থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার (জিএলওএফ) ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে চীনের গিয়িরং কাউন্টি থেকে নেমে আসা ঢল নেপালের রসুয়া জেলায় আঘাত হেনেছিল। তবে এবারের ঘটনায় জিএলওএফ-এর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই দুর্যোগের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিজ্ঞানীরা ‘অ্যাট্রিবিউশন স্টাডি’ শুরু করবেন। ডরোথি হাইনরিচ বলেন, হিমালয়ে তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি, হিমবাহ সরে যাওয়া এবং স্থায়ী বরফ গলে যাওয়ার মতো পরিবর্তনগুলো ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতির সঙ্গে শিল্পবিপ্লব-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনা করে বিজ্ঞানীরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।
সীমান্তের চীনা অংশে নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েক তলা উঁচু ভবন মুহূর্তের মধ্যে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। বাস ও গাড়িগুলো খেলনার মতো ভেসে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হওয়া অনেক মানুষই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন প্রবল স্রোত আগে থেকে অনুমান করা কার্যত অসম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দৌড়ে পালিয়ে এর আঘাত থেকে প্রাণরক্ষা করাটাও বেশ কঠিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ‘পৃথিবীর ছাদ’ হিসেবে পরিচিত হিমালয় অঞ্চলে বেশ কিছু পরিবর্তনের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের দুর্যোগের শঙ্কাও বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালে আকস্মিক বন্যা–ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ চার শতাধিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে প্রাকৃতিকভাবে বাঁধের মতো অবস্থা তৈরি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সেই ‘বাঁধ’ ভেঙে পানির প্রবল ঢল নিচের দিকে নেমে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর জের ধরে ভূমিধস ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।