বিহারের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রোববার দুই মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সম্রাট চৌধুরী জানান, গঙ্গার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফারাক্কার গেটগুলো খুলে দেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ফারাক্কা ব্যারাজের গেটগুলো খুলে দিলে গঙ্গার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, যা বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, বিহারের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এদিকে, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই চুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। সাংসদ ঝা মনে করেন, বিহারের স্বার্থ রক্ষা না করে চুক্তিটি নবায়ন করা সমীচীন হবে না।
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের চুক্তির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা ব্যারাজে পানি বণ্টনের রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছিল। অন্যদিকে, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। ২০১১ সালে একটি খসড়া চুক্তিতে তিস্তার পানির ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভারতকে এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে সেই প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাকি পানি অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় ভাগ করার প্রস্তাব ছিল।