হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববাজারে তেলের দামে যে ভয়াবহ অস্থিরতা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে চীনের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহারের কৌশলগত সিদ্ধান্তকে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হতো, যা ছিল বিশ্বের মোট দৈনিক চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বর্তমানে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ১০ থেকে ১৪ শতাংশ বাজারে পৌঁছাতে পারছে না।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধের সময় বৈশ্বিক সরবরাহের মাত্র ৭ শতাংশ ব্যাহত হলেও তেলের দাম চার গুণ বেড়ে গিয়েছিল। একইভাবে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণের সময় সরবরাহের মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরও দাম দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তবে বর্তমান সংকটের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বছরের শুরুতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬০ ডলার থাকলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
এই স্থিতিশীলতার পেছনে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধের কারণে বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার পরও চীন বিপুল পরিমাণ তেল কেনার পরিবর্তে নিজেদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে দেশটির অতিরিক্ত চাহিদা বিশ্ববাজারে নতুন করে কোনো চাপ সৃষ্টি করছে না, যা সামগ্রিক বাজার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে।