বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলের গঠনতন্ত্রের ৭(খ)৬ ধারা অনুযায়ী তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হয়। সেই শূন্যতা পূরণে পাঁচ দিনের মাথায় রিজভীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো।
রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৫ আগস্ট তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলার পৈতৃক নিবাসের রুহুল কবির রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ থেকে এমএ এবং ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি আইন বিষয়েও তার স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। ছাত্রজীবনে বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তার। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রিজভীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হলো ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে জয়লাভ করা। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এখন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংগঠনটির রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।