জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দির মধ্যে এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, পলাতক বন্দিদের মধ্যে ১৬৬ জনের কোনো তথ্য কারা অধিদপ্তরের কাছে নেই। তারা সবাই নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় গাজীপুর ও নরসিংদীসহ দেশের এক ডজনের বেশি কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ৯ জন জঙ্গি ছিলেন। মোতাহের হোসেন জানান, সবশেষ জুয়েল নামে এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন জঙ্গি পলাতক রয়েছেন।
কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশে ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি সেন্ট্রাল কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার। কিন্তু আজ পর্যন্ত বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার।” গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। মৃতদের স্বজন ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, “আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। এখন পর্যন্ত ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।” তিনি আরও জানান, “২০২৫ সালে ১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, আর এই বছর এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।” কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের তীব্র ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
কারাগারে বন্দি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে কথা বলছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, “মোবাইলে কথা বলছে না, এটা আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি না। তবে আমরা কোনোভাবেই ছাড় দিচ্ছি না। গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে এবং এই প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছে।”
বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানান মহাপরিদর্শক। তিনি বলেন, “এই বন্দিদের মধ্যে ১৭০ জন রয়েছেন, যাদের সাজা শেষ হয়ে গেছে; কিন্তু দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এম্বাসি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
বিদেশি বন্দিদের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, “গত দুই বছরে বিদেশি প্রায় ১৭টি মৃতদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।” বিধি অনুযায়ী বিদেশিদের মরদেহ ৩ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে ৩টি মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত আছে। যদি কোনো পরিবার বা বিদেশি প্রতিনিধি মরদেহ নিতে না আসে, তবে ডিএনএ সংরক্ষণ করে নিয়মানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”