যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের পাসপোর্টে বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর) ফি ৪৬ পাউন্ড থেকে ৭০ পাউন্ডসহ কয়েকটি সেবার ফি বৃদ্ধি করায় ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি আপসানা বেগম ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে হাইকমিশনারকে একটি বিশেষ চিঠি দিয়েছেন।
ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মাঝে সৃষ্ট এই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার প্রেক্ষিতে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন গত ১১ ডিসেম্বর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাউন্সিলর সার্ভিস নানা পর্যালোচনার পর গত ৪ ডিসেম্বর কয়েকটি ক্ষেত্রে ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সার্ভিসগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের এনভিআর ফি ৪৬ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৭০ পাউন্ড করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হাইকমিশনের তথ্যমতে, ২০১১ সাল থেকে দীর্ঘদিন এই কাউন্সিলর সার্ভিস ফি বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হলেও সম্প্রতি তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিবৃতিতে টুরিস্ট ও অন্যান্য ভিসা ফির সঙ্গে এনভিআরের ভিসা ফির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, এনভিআরের ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং এর ফি মাত্র ৭০ পাউন্ড। পক্ষান্তরে টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ছয় মাস এবং এর ফি ১০৫ পাউন্ড, আর অন্যান্য ভিসার মেয়াদ ৫ বছর এবং তাদের ফি ৬৯৫ পাউন্ড। হাইকমিশন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিবৃতিতে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একইসঙ্গে তারা নানা পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ সরকারের এই ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি আন্তরিকভাবে সুবিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এনভিআরসহ চারটি সেবার ফি বৃদ্ধিতে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মোহাম্মদ হযরত আলী খানের কাছে ই-মেইল পাঠিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের গভীর অনুভূতি, হতাশা, ক্ষোভ এবং উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।
ই-মেইলে বলা হয়, কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই একদিনের নোটিশে সরকার নো-ভিসার ফি বৃদ্ধি করেছে। এই পরিবর্তন পর্যাপ্ত পরামর্শ বা প্রস্তুতির জন্য সময় না দিয়েই করা হয়েছে। ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠানো, বিনিয়োগ ও হলিডে করার মাধ্যমে মাতৃভূমির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। অথচ এত দ্রুত নো ভিসার ফি বৃদ্ধির কারণে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। বাংলাদেশ সেন্টারের পক্ষ থেকে এই ফি বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে নো-ভিসার ফি ৪৬ পাউন্ড পুনর্বহাল করার জন্য জোরালো দাবি জানানো হয়।
এদিকে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইউকের কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে আয়োজিত এক সভায় নো ভিসা ফি বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের চেয়ারপার্সন ব্যারিস্টার আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ খসরু খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রিজিওনের সভাপতি ফখর উদ্দিন। সভায় বক্তারা অবিলম্বে এনভিআর ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।