রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের পকেট কাট100%র অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাজারে প্রবেশ করলেই ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে দেখা যাচ্ছে, কারণ সবজি, ডিম, মাছ ও মুরগি—সবকিছুর দামই এখন ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ কিছুটা থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম আকাশচুম্বী। বিশেষ করে পটল, করলা, ঢ্যাঁড়শ, বরবটি এবং পেঁপে থেকে শুরু করে প্রতিটি সবজির দামই সাধারণ আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। বিক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, তীব্র গরম ও বৈরী আবহাওয়া এবং পরিবহন খরচের ঊর্ধ্বগতির কারণে পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বেশি, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

সবজির পাশাপাশি আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস ডিম এবং মুরগির বাজারেও চলছে অস্থিরতা। ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষ মাংস কেনা প্রায় কমিয়ে দিয়েছেন। এর ওপর ডিমের বাজারেও রয়েছে চরম অস্বস্তি। প্রতি হালি ডিমের দাম এতটাই বেড়ে গেছে যে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য আমিষের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেট ও সরবরাহ ঘাটতির কথা বলা হলেও কার্যকর তদারকির অভাবে বাজারে দামের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

মাছের বাজারেও স্বস্তির কোনো খবর নেই। রুই, কাতলা, তেলাপিয়া থেকে শুরু করে দেশি প্রজাতির প্রতিটি মাছের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। চাষের মাছের দাম কিছুটা সহনীয় হওয়ার কথা থাকলেও ফিডের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সব ধরনের মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাজারে ইলিশ মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের তা কেনার সাধ্যের বাইরে। ফলে পাঙাশ ও তেলাপিয়ার ওপর ভরসা করতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষকে, কিন্তু সেগুলোর দামও এখন ঊর্ধ্বমুখী।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাবেই পণ্যের দাম এভাবে লাগামহীনভাবে বাড়ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীরা সহজেই ফায়দা লুটছে। সাধারণ ক্রেতারা দাবি করছেন, দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করা না হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহл থেকে জরুরি ভিত্তিতে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।