অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে দুর্দান্ত এক দিন পার করেছে বাংলাদেশ দল। ডারউইনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে টাইগাররা। প্রথম দিনের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দিনেও অস্ট্রেলীয় বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন, অন্যদিকে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও দলের বড় পুঁজি গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দিনের শুরুতে মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসানের জুটি অস্ট্রেলীয় আক্রমণকে দারুণভাবে প্রতিহত করে। সাবলীল ব্যাটিংয়ে মুমিনুল ফিফটির খুব কাছে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ৪৯ রানে সাজঘরে ফেরেন। তবে এতে দলের গতি মন্থর হয়নি। এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদের সঙ্গে তাঁর চমৎকার বোঝাপড়ায় ৯৩ রানের একটি জুটি গড়ে ওঠে, যা স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো দিশেহারা করে তোলে। দারুণ সব শটে গ্যালারির দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন দুই ব্যাটার। পুল শট ও দারুণ ড্রাইভে রান সংগ্রহ করতে থাকেন নাজমুল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৮৪ রান করে তিনি আউট হয়ে যান, ফলে শতক পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। অন্যদিকে, কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করে নিজের স্বভাবসুলভ ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান তানজিদ। দুর্দান্ত একটি সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর হেলমেটে চুমু এঁকে নিজের উল্লাস প্রকাশ করেন এই তরুণ ওপেনার। তাঁর এই নান্দনিক ইনিংস ক্রিকেট বিশ্লেষক ও সমর্থকদের প্রশংসায় ভাসছে। তবে দিনের শেষভাগে কিছু দ্রুত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন, এবং লিটন দাসও কোনো রান করার সুযোগ পাননি। তা সত্ত্বেও লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় দল। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা পেসার শরীফুল ইসলামের পাশাপাশি হাসান মাহমুদ শেষ বিকেলে অসাধারণ ধৈর্য ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। হাসান মাহমুদ যেন একজন পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যানের মতো লড়াই করে ৭৬ বল মোকাবেলা করেন। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের দৃঢ়তায় ১৫৩ রানের বড় লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। ডারউইনের রোদভরা কন্ডিশনে এই পারফরম্যান্স টাইগারদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচটির পরবর্তী দিনগুলোতে বাংলাদেশ দল তাদের এই লিড আরও বাড়িয়ে নিতে চাইবে, যা অজিদের বিরুদ্ধে টেস্ট ইতিহাসে একটি স্মরণীয় জয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে।