যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আকস্মিক এক পালাবদলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ক্যারোলাইন লেভিট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই লেভিট তাঁর বর্তমান দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেবেন। মূলত দুই ছোট সন্তানের লালনপালন ও পারিবারিক জীবনে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই শীর্ষ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইতিহাস গড়া লেভিটের এই প্রস্থানের ঘোষণা মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারোলাইন লেভিটের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁকে নিজের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী ও দক্ষ ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের পদ ছাড়লেও লেভিট তাঁর ঘনিষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে বহাল থাকবেন। এছাড়া রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারণী ও রাজনৈতিক কার্যক্রমেও তিনি আগের মতো প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে যাবেন। গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংগুলোতে লেভিটের পেশাদারিত্ব ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি গণমাধ্যমে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল।

গত মে মাসে কন্যাসন্তানের মা হন ক্যারোলাইন লেভিট। স্বামী নিকোলাস রিসিওর ও দুই বছরের এক পুত্রসন্তানের জননী লেভিটের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে গত মাসে কাজে ফেরা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর ও মর্যাদাপূর্ণ এই সরকারি দপ্তরের বিপুল চাপ সামলানো এবং একই সঙ্গে দুই কন্যাসন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তাঁর জন্য মানসিকভাবে ভীষণ দুরূহ হয়ে পড়েছিল। পেশাগত দায়িত্বের চেয়ে পারিবারিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে লেভিট ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদ থেকেই অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে হোয়াইট হাউসে কাজ করার পাশাপাশি কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবেও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্য থেকে কংগ্রেস সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও নিজের শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন। এদিকে, লেভিটের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যেভাবে মিডিয়া ব্রিফিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তা থেকেই নতুন উত্তরসূরি নির্বাচনের ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।