ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে এবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘সমকামিতা’র সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুই শিক্ষার্থীর হলের আবাসিক সিট স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হলের অভ্যন্তরে এই ঘটনা ঘটে। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় অভিভাবকদের ডেকে তাঁদের জিম্মায় ওই শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে হল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার অধিকতর তদন্ত চলছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ ঘটনার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আবাসিক হলের নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে পুরো ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং বর্তমানে ট্রমার মধ্যে থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ঘটনা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত ৩০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলে সমকামিতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক শিক্ষার্থীকে আটক এবং পরবর্তীতে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের একটি কক্ষে অতিথি হিসেবে অবস্থানকারী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সমকামিতায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় হলের সহকারী সাধারণ সম্পাদকের (এজিএস) আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছিল এবং এ নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে হলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন তদারকি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।